মিড ডে মিলে স্বাদ আনবে কুকিং কম্পিটিশন, প্রশাসন নিলো নতুন উদ্যোগ

ইন্দুবালা ভাতের হোটেলের লেখক কল্লোল লাহিড়ীর গল্পে দেখা যায়, অভাবের সংসারে কচু দিয়েও ইন্দুবালা এমন সুস্বাদু ভাত বানিয়েছেন যে, লছমিও তাতে খুশি হয়েছেন। এই গল্প থেকেই বোঝা যায়, খাবারের স্বাদ বাড়াতে বেশি উপকরণ প্রয়োজন নয়।

রাজ্যের মিড ডে মিলের রান্নার সহায়িকারাও যৎসামান্য উপকরণ দিয়েই খাবার রান্না করতে বাধ্য হন। কিন্তু তাঁরা চান যে, খাবারগুলো স্বাদ এবং পুষ্টিকর হোক। সেই লক্ষ্যে রাজ্য সরকার ট্রেনিং প্রোগ্রাম শুরু করেছে। এছাড়াও, কুকিং কম্পিটিশনের মাধ্যমে সেরা রেসিপি তুলে আনা হবে।

কলকাতা জেলার মিড ডে মিল কর্তৃপক্ষের আধিকারিকদের কথায়, ‘আমরা কুকিং কম্পিটিশনের মাধ্যমে সেরা রেসিপিগুলো তুলে আনব। যাঁরা প্রতিযোগিতায় জয়ী হবেন, তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে। তাঁদের রেসিপি বাকিদের সঙ্গেও শেয়ার করে নেওয়া হবে।’

মিড ডে মিলের খাবারের স্বাদ নিয়ে অনেক অভিযোগ ওঠে। অনেক সময় খাবার নষ্টও হয়। রাজ্য সরকার সেই অভিযোগ কমাতে চেষ্টা করছে।

কল্লোল লাহিড়ী মনে করেন, খাবারের স্বাদ বাড়াতে বেশি উপকরণ প্রয়োজন নয়। তিনি তাঁর মায়ের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তাঁর মা চিংড়ি দিয়ে ঝোল বানিয়ে তাঁদের দুই ভাইকে স্কুলে পাঠাতেন।

ঘরোয়া উপকরণেই সুস্বাদু রান্নায় সুখ্যাতি রয়েছে, এমন এক রন্ধনশিল্পীর কথায়, ‘লাউ তো কম তেলে, সেদ্ধ করে রান্না করাই দস্তুর। তাতে স্বাদের ঘাটতি হতে পারে। কিন্তু শুকনো কড়াইয়ে চিংড়ি ভেজে যদি সেই লাউয়ে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলেই বাজিমাত। পুষ্টিগুণ তো বাড়লই, স্বাদও একেবারে তুঙ্গে।’

যদিও রন্ধন কর্মীরা বারবার যৎসামান্য বরাদ্দ আর অভাবের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের একটি স্কুলের রন্ধন সহায়িকা সেলিমা বিবির কথায়, ‘মাথাপিছু বরাদ্দ প্রাথমিকে ৫.৪৭ টাকা এবং উচ্চ প্রাথমিকে ৮.১৪ টাকা। সেখানে তেল, নুন, মশলা কিনলে ভাত-ডিম-সব্জির টাকা থাকে না। স্বাদ আনতে গেলে বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে।’

ইন্দুবালা ভাতের হোটেল থেকে শিক্ষা নিয়ে, যদি মিড ডে মিলের রান্নার সহায়িকারা যৎসামান্য উপকরণ দিয়েও সুস্বাদু খাবার রান্না করতে পারেন, তাহলে খাবারের স্বাদ এবং পুষ্টির মান দুটোই বাড়বে। এতে করে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা আরও ভালোভাবে খাবার খেতে পারবে।