বাড়িতে ভর্তি কুকুর-বিড়াল-গোরু-হাঁস-মুরগির আস্তানা, সব সামলে MA পাশ করলেন ৪৫-র গৃহবধূ

রায়গঞ্জের চাপদুয়ার এলাকার বাসিন্দা বীথিকা দাস। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। কিন্তু মাঝে নানান রকম প্রতিকূল অবস্থার জেরে ছেদ পড়ে পড়াশোনায়। সংসারের হাল ধরতে হয় তাঁকে।
এরপর বয়স বেড়ে চললেও পড়াশোনার প্রতি তার উৎসাহ বাড়তে থাকে। সিদ্ধান্ত নেন উচ্চশিক্ষার জন্য স্নাতকে ভর্তি হওয়ার। সেইমত ভর্তিও হন কলেজে। স্নাতক সম্পন্ন হওয়ার পর ভর্তি হন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে।
সংসার সামলে প্রতিদিন নিয়ম মেনে রুটিন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠ নিয়েছেন তিনি। পরীক্ষায় বসে পাশও করলেন। গত ১২ই ডিসেম্বর স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন বিথীকা দেবী।
বীথিকা বলেন, “পরিস্থিতি আমার অনুকূলে ছিল না। অনেক কষ্ট করে আমায় পড়াশোনা চালাতে হয়েছে। তবে এটা আমার স্বপ্ন পূরণ হল।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এখানে রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটিতে ভালো ব্যবস্থা আছে। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় আছে। বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে অনেকটাই সাহায্য করেছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট, ছোট ভাই-বোনের সঙ্গে নিয়মিত ক্লাস করেছি। তাঁরা আমাকে প্রত্যেকে সাহায্য করেছে। সবার সঙ্গে মিলেমিশে পড়াশোনা করেছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডঃ দুর্লভ সরকার জানান, “এরকম ঘটনার উদাহরণ তো সচরাচর দেখা যায় না। যেখানে চারিদিকে শিক্ষার এত অভাব, সেখানে এই সমস্ত উদাহরণ আমাদের জীবনকে নাড়িয়ে দেয়।”
তিনি বলেন, “ওঁকে আমার তরফ থেকে অনেক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা। তবে ওঁর পড়াশোনার জন্য উৎসাহিত করেছেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান উপাচার্য। সবার অনেক সহযোগিতা পেয়ে উনি সাফল্য পেয়েছেন।”
বীথিকা দাসের এই সাফল্য সকলের জন্য অনুপ্রেরণা। এটা প্রমাণ করে যে বয়স শুধুই একটা সংখ্যা। কঠোর পরিশ্রম আর সংকল্পের মাধ্যমে যেকোনো বয়সেই স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।