“আমাকে এরা কিনতে পারবে না!”-সাফ কথা জানালেন তৃণমূল নেত্রী

কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের লড়াইয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি এখন সারা দেশে যে মতাদর্শ নিয়ে চলছে, তার বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই জারি থাকবে বলেও একাধিকবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

কিন্তু তারপরেও বিজেপির পুরোনো নেতাদের মধ্যে একটা আদর্শ ছিল বলে পর্যবেক্ষণ তৃণমূল নেত্রীর। গেরুয়া শিবিরের নব্য নেতৃত্বের তুলনায় তিনি যে বিজেপির প্রবীণ নেতৃত্বকে বেশি নম্বর দেন, তা এর আগেও বেশ কয়েকবার বলেছেন তিনি।

সোমবার নয়াদিল্লিতে রাজ্য সরকারের অতিথিশালা বঙ্গভবনে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে সে কথা আরও একবার মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, “বিজেপির পুরোনো নেতাদের মধ্যে আদর্শ ছিল, নীতি ছিল। বাজপেয়ীজি, আদবানিজি ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন অরুণ জেটলি, সুষমা স্বরাজের মত নেতানেত্রীরা। রাজনাথজি (রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী), গড়করিজি (নীতিন গড়কড়ি, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী) আছেন এখনও।”

এর পরেই বিজেপির বর্তমান নেতৃত্বের উদ্দেশে তোপ দেগে মমতা বলেন, “বিজেপির আদর্শের সঙ্গে আমার মতবিরোধ আছে। আমাকে এরা কিনতে পারবে না, যতদিন বাঁচব লড়াই করে যাব।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের কয়েকটি দিক নিয়ে আলোচনা করা যাক:

বিজেপির পুরোনো নেতাদের প্রতি তৃণমূল সুপ্রিমোর নরম মনোভাব নতুন কোনও ঘটনা নয়। অতীতে তিনি নিজে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আদবানির সঙ্গে তাঁর সুমধুর সম্পর্কের কথা সর্বজনবিদিত। বাজপেয়ী নিজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে গিয়েছেন। তাঁদের পরে অরুণ জেটলি ও সুষমা স্বরাজের সঙ্গেও মমতার যথেষ্ট ভালো সম্পর্ক ছিল। সেই সময়কার বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব বরাবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। মমতাও বিভিন্ন সময়ে তাঁদের সম্মান প্রদর্শন করেছেন।

বর্তমানে কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি সরকারের দুই মন্ত্রী রাজনাথ ও গড়কড়ির সঙ্গেও মমতার সম্পর্ক যথেষ্ট ভালো। রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে মমতার সম্পর্ক বেশ পুরনো। তিনি যখন বিরোধী দলের নেতা ছিলেন, তখনও তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। গড়কড়ির সঙ্গেও মমতার সম্পর্ক বেশ ভালো। তিনি গত বছরের শেষ দিকে কলকাতায় এসেছিলেন, তখন মমতা তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের মাধ্যমে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন মোদী সরকারের মধ্যে সুকৌশলে একটা বিভাজন তৈরির চেষ্টা করলেন বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বিজেপির পুরোনো নেতাদের প্রশংসা করে বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করলেন। এর ফলে বিজেপির মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের মাধ্যমে বিজেপির বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই যে চলবে সেটাও পরিষ্কার হয়ে গেল। তিনি বলেন, “বিজেপি সব কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, সবার স্বাধীনতা খর্ব করছে।” তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির অপব্যবহার এবং গেরুয়াকরণের মতো অভিযোগও তুলেছেন।