মরুভূমির ১০০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় হয় এলিয়েনের আনাগোনা, প্রমাণ পেলেন কানাডার বাসিন্দা

তুর্কমেনিস্তানের কারাকুম মরুভূমিতে ৪৩ বছর ধরে জ্বলতে থাকা একটি আগুনের গর্তের নাম “নরকের দরজা”। এই গর্তের তাপমাত্রা ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এই গর্তের গভীরতা প্রায় ৬৫ ফুট এবং প্রস্থ ২২৯ ফুট।
কানাডার বাসিন্দা জর্জ কাউরুনিস এই গর্তের ভেতর নেমেছিলেন। তিনি একটি নিরাপত্তা স্যুট পরা ছিলেন এবং একটি দড়ি ব্যবহার করেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল এই গর্তের পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা এবং নীচের মাটির নমুনা নেওয়া।
জর্জের মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নীচের মাটির নমুনা নেওয়া। তিনি মাটির নমুনা মাইক্রোবায়োলজিস্ট ডঃ স্টিফেন গ্রিনের কাছে নিয়ে যান।
ডঃ গ্রিন মাটির নমুনা পরীক্ষা করে দেখেন যে সেখানে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা এত উচ্চ তাপমাত্রাতেও বেঁচে থাকতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলিকে “এক্সট্রিমোফাইল” বলা হয়।
জর্জ কাউরুনিস মনে করেন যে এই ব্যাকটেরিয়াগুলির অস্তিত্ব এলিয়েনদের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, “পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে অপ্রত্যাশিত জীবনের আবিষ্কারের সাথে নরকের দরজায় একটি অতিপ্রাকৃত স্পর্শ রয়েছে।”
জর্জ কাউরুনিস বলেন যে, সৌরজগতের বাইরে এমন গ্রহগুলি আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলির বায়ুমণ্ডল খুব গরম এবং মিথেন সমৃদ্ধ। এই গ্রহগুলির পরিবেশ নরকের দরজার মতোই।
জর্জ কাউরুনিসের এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছেন যে, এই আবিষ্কার মহাবিশ্বে জীবনের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণা পরিবর্তন করতে পারে।
জর্জ কাউরুনিসের অভিজ্ঞতা
জর্জ কাউরুনিস বলেন যে, ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার আগুনের গর্তের ভেতর নেমে তিনি খুব নার্ভাস ছিলেন। তার মনে প্রশ্ন ছিল যে, তিনি যেখানে কোনও মানুষ কখনই যায়নি সেখানে তিনি নামতে পারবেন তো।
জর্জ বলেন, “আমি সেখানে প্রায় ১৫ মিনিট ছিলাম। সেই সময় আমি কেবলমাত্র আমার কাজের উপর মনোযোগ দিয়েছিলাম। আমি ভাবতেও সাহস পাইনি যে, আমি যদি বেরিয়ে আসতে না পারি তাহলে কী হবে।”
জর্জ কাউরুনিসের এই অভিযান বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করেছে। এই অভিযানের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, এমন উচ্চ তাপমাত্রার পরিবেশেও জীবনের অস্তিত্ব সম্ভব।