নদীর তলায় আর এক নদী! বন্যা রুখতে এবার জাপানের পদ্ধতির অনুকরণ হবে ভারতে

২০০৫ সালের ২৬ জুলাই মুম্বাইতে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টায় ৯৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এই বৃষ্টিতে শহরের বেশিরভাগ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। প্রাণহানি হয়েছিল ১০৯৪ জনের। ক্ষতি হয়েছিল ৫৫০ কোটি টাকার। এই ঘটনার পর থেকে মুম্বাইতে বন্যা প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মুম্বাইয়ে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ২০২১ সালের ভারী বৃষ্টিতেও শহরের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহারাষ্ট্র সরকার একটি নতুন প্রকল্প নিয়ে এগিয়েছে। এই প্রকল্পের নাম “ভূগর্ভস্থ নদী”। এই প্রকল্পে মুম্বাইয়ের নদীর তলায় একটি কৃত্রিম নদী তৈরি করা হবে। এই কৃত্রিম নদী বৃষ্টির অতিরিক্ত জল শোষণ করবে। ফলে রাস্তায় জল জমার সম্ভাবনা কমবে।

এই প্রকল্পের জন্য জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) সহায়তা করবে। জাপানে এই ধরনের প্রকল্প ইতিমধ্যেই সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

প্রবীণ পরদেশী, মহারাষ্ট্র ইনস্টিটিউট অফ ট্রান্সফরমেশনের সিইও, বলেন, “মিঠি নদীর তলায় কৃত্রিম নদী তৈরি করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এটি হবে মুম্বাইয়ের লাইফলাইন। যখনই আবহাওয়া অতিরিক্ত গরম হয় তখনই বেশি বৃষ্টি হয়। গড় বৃষ্টিপাত একই রয়েছে। একেবারে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে জল নিষ্কাশনের ক্ষমতা কমে যায়। মুম্বাইয়ের বিল্ট আপ এরিয়া বেড়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনার সময় আমরা ভেবেছিলাম ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে ৪০ মিলিমিটার জল মাটির তলায় চলে যাবে। কিন্তু বর্তমানে বিল্ট আপ এরিয়া বেড়েছে বলে মাটির জল শোষণ ক্ষমতা কমেছে।”

প্রবীণ পরদেশী আরও বলেন, “রাস্তায় তখনই জল জমবে না যখন সেই জল বড় স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনে চলে যাবে। তবে এত বড় বড় স্টর্ম ওয়াটার ড্রেন তৈরি করা কঠিন। এই সমস্যার সমাধান পাওয়া গেছে জাপানে। টোকিওতে এডো নদীর পাশে আরেকটি সমান বড় নদী তৈরি করা হয়েছে। যখন অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে জলের স্তর বেড়ে যায় তখন জল ‘ড্র হোল’ দিয়ে জল নীচে চলে যায়। বড় বড় নালায় এই জল জমা হয়। এ কারণে সেখানে কখনই বৃষ্টির জল রাস্তায় জমে যা। অতিরিক্ত জল থাকলে তা সরাসরি চলে যায় ভূগর্ভস্থ নদীতে। এই নদী আসলে টানেলের মতো, কংক্রিটের তৈরি।”

এই প্রকল্পের জন্য জাইকা একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ জাপানে গিয়ে এনিয়ে একটি বৈঠক করেছেন। জাইকা এই প্রকল্প সাহায্য করতে প্রস্তুত বলে জানা গিয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সাত বছরের বেশি সময় লাগতে পারে। তার আগে বন্যা প্রতিরোধে কিছু ছোটখাটো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যার কারণে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ক্ষতি কমানো সম্ভব।

মুম্বাই বন্যা প্রতিরোধে ভূগর্ভস্থ নদী প্রকল্প একটি সাহসী পদক্ষেপ। এই প্রকল্প সফল হলে মুম্বাইয়ের বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।