SSK ও MSK-র কর্মীদের দিতে হবে PF সুবিধা, নির্দেশ দিলো হাইকোর্ট

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্যের শিশুশিক্ষা ও মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রে (এসএসকে ও এমএসকে) কর্মরত সহায়ক-সহায়িকা এবং সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকাদের প্যারাটিচারদের মতো পিএফ সুবিধা দিতে হবে।

বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার নির্দেশ, রাজ্য সরকার ২০১৫ সাল থেকে প্যারাটিচারদের পিএফ সুবিধা দিচ্ছে। সেই অনুযায়ী, সহায়ক-সহায়িকা এবং সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকাদেরও একই সুবিধা দিতে হবে।

হাইকোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছে, যেহেতু রাজ্য সরকার এই সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল, তাই যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় আনতে হবে।

আইনজীবীদের দাবি, রাজ্যের বক্তব্য মেনে নিয়ে ১০ হাজারের বেশি সহায়ক-সহায়িকা, সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকা নিজেদের চাকরির মেয়াদ কমানোর রাজ্যের শর্ত মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু আশ্বাস অনুযায়ী পিএফের সুবিধা তাঁদের দেওয়া হয়নি।

হাইকোর্ট জানিয়েছে, আগে রাজ্যের শর্ত মেনেও যাঁরা পরে ফের পুরোনো জায়গায় ফিরে গিয়েছেন তাঁরা হাইকোর্টের এই নির্দেশের সুফল পাবেন না।

সর্বশিক্ষা মিশনের অধীনে শিশু শিক্ষাকেন্দ্র ও মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতে সহায়ক-সহায়িকা এবং সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকা নিয়োগ করা হয়।

প্রথমে পঞ্চায়েত দফতরের অধীনে থাকলেও ২০২০ সালে শিক্ষা দফতরের অধীনে আসে এসএসকে ও এমএসকে। তার পরেই রাজ্য সরকার জানায়, সহায়ক-সহায়িকা এবং সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকারা ৬৫-র বদলে ৬০ বছর বয়সে অবসর নিলে প্যারাটিচারের সমতুল্য সুযোগ পাবেন। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়।

প্রায় ১০ হাজার কর্মী শর্ত মেনে নেন। কিন্তু এতদিন পরেও রাজ্য পিএফের সুবিধা না দেওয়ায় প্রায় দু’শো সহায়ক-সহায়িকা হাইকোর্টে মামলা করেন। সেই মামলাতেই নির্দেশ দিতে গিয়ে হাইকোর্ট অর্থ দপ্তরকেই টাকা বরাদ্দ করতে হবে বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

এই নির্দেশে সহায়ক-সহায়িকা এবং সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকাদের জন্য একটি বড় সুবিধা নিশ্চিত হল। এই সুবিধা পেলে তাঁরা অবসরের পরে অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা স্বচ্ছল হতে পারবেন।

তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র সেই কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে যারা ২০২০ সালের আগে রাজ্যের শর্ত মেনে নিয়েছিলেন।

রাজ্য সরকারকে এখন দ্রুত এই সুবিধা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।