বিশেষ: বাস্তবের ‘অর্ধাঙ্গিনী’, প্রাক্তন স্বামীকে সুস্থ করে ফের বিয়ের পিঁড়িতে ডিভোর্সি স্ত্রী, প্রশংসা সকলের

ভালোবাসা, এক অপূর্ব অনুভূতি। এই অনুভূতির টানে মানুষ অনেক কিছুই করতে পারে। ভালোবাসার টানেই মানুষ এক হয়, আবার ভালোবাসার টানেই মানুষ বিচ্ছেদ হয়। কিন্তু, ভালোবাসার মৃত্যু হয় না। বিচ্ছেদের পরও মনের কোণায় ভালোবাসা বয়ে নিয়ে আজীবন কাটিয়ে দিয়েছেন এমনও শতশত উদাহরণ রয়েছে।

গাজিয়াবাদের বিনয় জয়সওয়াল ও পূজা চৌধুরীর গল্পও একই রকম। ২০১২ সালে বিয়ে হয়েছিল দু’জনের। কিন্তু, বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই দু’জনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। মতের অমিল লেগেই থাকত দু’জনের মধ্যে। এরপর দু’জনই আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, ডিভোর্সের পথে হাঁটেন। ২০১৮ সালে শেষমেশ ডিভোর্স হয় দু’জনের।

পাঁচ বছর আলাদা থাকার পর, ২০২৩ সালে হঠাৎই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন বিনয় জয়সওয়াল। ওপেন হার্ট সার্জারিও করতে হয়। এই খবর কানে পড়তেই ছুটে যান পূজা। প্রাক্তন স্বামীর শরীর খারাপ, আর তিনি দূরে থাকবেন এমনটা মানতে মন মানেনি। তারপর থেকেই কাছে আসা শুরু। কিছুদিনের মধ্যেই আবারও এক হয় দু’জন।

বিনয়ের কথায়, “আমরা আলাদা হয়ে গেলেও হৃদয়ের টান বরাবরই অটুট ছিলই। দু’জনের মধ্যে কোনও দিনই তিক্ততা আসেনি। এমনকী বিবাহবিচ্ছেদের পরও আমরা কিছু সময় কাটিয়ে রাতে ডিনার করেছিলাম। তবে তারপর অবশ্য পাঁচ বছর আমাদের মধ্যে কোনও যোগাযোগ ছিল না।”

পূজা বলেন, “বিনয়ের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার খবর শুনে আমি খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। তারপর আর দেরি না করে ছুটে গিয়েছিলাম। তারপর থেকেই আমরা আবার কাছাকাছি এসেছি।”

দু’জনেরই মনের ইচ্ছা ছিল আবার এক হওয়ার। সেই ইচ্ছাই পূরণ হল। ২৩ নভেম্বর ফের মিলন হয়েছে দুই হৃদয়ের। ১১ বছর পর আবারও একবার বাজল সানাই, আবারও সেই বর কনের বেশে বিয়ের মণ্ডপে গেলেন বিনয়-পূজা।

এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ভালোবাসার মৃত্যু হয় না। বিচ্ছেদের পরও ভালোবাসা থাকলে, তা আবারও এক হতে পারে।