টানাহ্যাঁচড়া করাতেই ভাঙল অগার মেশিন! জেনেনিন কী ভাবে সুড়ঙ্গ খনন করে এটি?

১৫ দিনের অপেক্ষার পরও উত্তরকাশীর সিল্কইয়ারা সুড়ঙ্গ থেকে এখনও বের করা সম্ভব হয়নি ৪১ জন শ্রমিককে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অগার মেশিন ইতিমধ্যেই ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। শুরু হয়েছে ম্যানুয়াল ড্রিলিং। এবার ভরসা সেই ভারতীয় সেনার উপরই।
রবিবার গোটা দিন পর ২০ মিটার পর্যন্ত ভার্টিক্যাল ড্রিলিং সম্পন্ন হয়েছে বলে খবর। ভারতীয় সেনার সাহায্যে তাই চলছে এই ড্রিলিংয়ের কাজ।
জাতীয় সড়ক এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্পোরেশন লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাহমুদ আহমেদ বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এই ম্যানুয়াল ড্রিলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। যদি আর কোনও বাধা-বিপত্তি না আসে তবে বিষ্যুদবারই মিলবে সুখবর।’
ইতিমধ্যেই ২০ মিটার ভার্টিক্যাল ড্রিলিংয়ের সাহায্যে একটি ৭০০ মিলিমিটার পাইপ দুর্ঘটনাস্থলে ঢোকানো হয়েছে। আরও একটি ২০০ মিলিমিটার পাইপ ভিতরে ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
আমেরিকান অগার মেশিনটি ভেঙে যাওয়ার পর সুড়ঙ্গপথের মুখ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ৮০০ মিটার চওড়া এবং ৩২ মিটার লম্বা এই অগার মেশিনের টুকরোগুলি সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনাই এখন চ্যালেঞ্জ। এর জন্য হায়দরাবাদ থেকে বিশেষ প্লাজমা কাটিং মেশিন নিয়ে আসা হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল টানেল এক্সপার্ট আর্লন্ড ডিক্স বলেন, ‘মেশিন খারাপ হয়ে গিয়েছে। এবার ম্যানুয়াল ড্রিলিং ছাড়া কোনও গতি নেই। যা কিছু বিকল্প পথ অবলম্বন করছি তার একটি করে ইতিবাচক এবং একটি করে নেতিবাচক দিক রয়েছে। ম্যানুয়াল ড্রিলিংয়ে অনেকটাই বেশি সময় লাগে।’
১০ ঘণ্টায় ৫০ মিটার খনন
আমেরিকার অগার মেশিনটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী যন্ত্র যা মাটি বা পাথর দ্রুত এবং সহজে খনন করতে পারে। এই মেশিনটিতে একটি গোল প্যাঁচানো ব্লেড থাকে যাকে বরমা বলা হয়। এই বরমাটি ঘুরতে থাকে এবং সুড়ঙ্গের মাটি বা পাথর কেটে চলে।
উত্তরাখণ্ডের সিল্কইয়ারা সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৪১ জন শ্রমিককে উদ্ধারের জন্য এই অগার মেশিনটি ব্যবহার করা হয়েছিল। ১০ ঘণ্টায় এই মেশিনটি ৫০ মিটার খনন করতে সক্ষম হয়।
এই মেশিনটি ব্যবহার করে খনন করার সময় বেশ কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। যেমন:
মেশিনের বরমাটি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
মেশিনটি যেন সুস্থিতভাবে খনন করতে পারে।
খননকৃত মাটি বা পাথর যেন সুরক্ষিতভাবে সরিয়ে ফেলা যায়।
টানেল বিশেষজ্ঞ এই সম্পূর্ণ কাজের জন্য বড়দিন পর্যন্ত ডেডলাইন দিয়ে রেখেছেন। তবে ভারতীয় সেনা এই উদ্ধারকাজে হাত দেওয়ায় সুড়ঙ্গ থেকে সুখবর আরও আগেই আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।