আটকে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইসবার্গ সরে যাচ্ছে, উদ্বেগে বিজ্ঞানীরা

সাগরের তলদেশে আটকে থাকা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আইসবার্গটি সরে যেতে শুরু করেছে। দীর্ঘ ৩৭ বছর আগে ১৯৮৬ সারে এ২৩এ নামের বিপুল এ বরফখন্ডটি অ্যান্টার্কটিকার উপকূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। পরে এটি ওয়েডেল সাগরে গিয়ে থেমে যায়। মূলত তখন থেকেই এটি একটি বরফ-দ্বীপে পরিণত হয়েছিল।
শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানায়, ওয়েডেল সাগরে আটকে থাকা এ বরফ-দ্বীপের আয়তন প্রায় ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার। এ হিসেবে এটির আয়তন বৃহত্তর লন্ডনের দ্বিগুণেরও বেশি। বিশাল বরফের এ খণ্ডটির পুরুত্ব প্রায় ৪০০ মিটার (১ হাজার ৩১২ ফুট)। সেই তুলনায় ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু ভবনটি মাত্র ৩১০ মিটার দীর্ঘ।
অনেক বেশি পুরুত্বের জন্যই অ্যান্টার্কটিকা উপকূলের কাছাকাছি ওয়েডেল সাগরের তলদেশে কাদার মধ্যে আটকে গিয়েছিল আইসবার্গটি। প্রশ্ন হলো—তাহলে দীর্ঘ বছর পর কেন সরে যাচ্ছে এটি।
অ্যান্টার্কটিকার জরিপ বিষয়ক ব্রিটিশ গবেষক অ্যান্ড্রু ফ্লেমিং জানান, আইসবার্গটি ১৯৮৬ সাল থেকে মাটিতে আটকে ছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে এটির আকার ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে মাটি থেকে আটকে থাকা অংশটি ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। ২০২০ সালেই এই বরফ-দ্বীপের নড়াচড়া প্রথমবারের মতো নজরে এসেছিল।
এদিকে বর্তমানে বিজ্ঞানীরা আইসবার্গটির গতিবিধি ঘনিষ্ঠভাবে নজরে রাখবেন। যদি এটি দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপের মাটিতে গিয়ে আটকে যায়, তবে ঐ দ্বীপে প্রজননকারী লাখ লাখ সিল, পেঙ্গুইন এবং অন্যান্য সামুদ্রিক পাখির জন্য সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ঐ অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাণীর স্বাভাবিক চলাচলকেও এটি বাধাগ্রস্ত করতে পারে।