“অনির্দিষ্টকালের জন্য বিল আটকে রাখতে পারেন না রাজ্যপাল”,-ফের জানালো সুপ্রিম কোর্ট

রাজ্যপালদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে তাঁরা রাজ্যের নির্বাচিত প্রতিনিধি নন এবং নির্বাচিত সরকারের আইন প্রণয়নের উপর তাদের ক্ষমতা খুবই সীমিত।
সম্প্রতি তামিলনাড়ু এবং পঞ্জাব সরকার তাদের রাজ্যপালদের বিরুদ্ধে বিল আটকে রাখার অভিযোগ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। এই মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট ফের একবার পর্যবেক্ষণ করল যে, রাজ্যপালরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনও বিল আটকে রাখতে পারেন না।
সংবিধানের ২০০ নং ধারায় স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, রাজ্যপালকে ‘যত শীঘ্র সম্ভব’ বিলে সই করতে হবে। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতেই হবে রাজ্যপালদের।
সাম্প্রতিককালে দেখা গিয়েছে, বাংলা, তামিলনাড়ু, কেরল সহ বহু অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যেই রাজ্যপালদের বিরুদ্ধে বিল সই না করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যপালদের অবশ্যই এটা মনে রাখতে হবে যে তাঁরা রাজ্যের নির্বাচিত প্রতিনিধি নন এবং নির্বাচিত সরকারের আইন প্রণয়নের উপর তাদের ক্ষমতা খুবই সীমিত।
এর আগেও বিল সই না করার ট্রেন্ড নিয়ে পৃথক মামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এই নিয়ে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় পর্যবেক্ষণ করেন, প্রত্যেকটা বিলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে আদালতে যেতে যাতে বাধ্য না করেন রাজ্যপালরা।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে তেলাঙ্গানাতে একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেখানকার রাজ্যপাল তামিলিসাই সৌন্দরাজন বেশ কয়েকটি বিলে সই করেননি। এর জেরে সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। সেই রাজ্যের সরকার তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। সেই মামলার শুনানি হওয়ার কিছু সময় আগে রাজ্যপাল তিনটি বিলে সই করে দেন।
এদিকে সাম্প্রতিককালে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিল সই না করার অভিযোগ জানিয়ে তামিলনাড়ু এবং কেরলও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল।
এদিকে আজ থেকে শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন। তার আগে সর্বদলীয় বৈঠকের পর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপালের বিল আটকে রাখা নিয়ে আবারও সরব হন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, রাজ্যপালের উচিত ছিল বিলের বর্তমান অবস্থা বিধানসভাকে জানানো। বিমানববাবুর অভিযোগ, রাজ্যপাল নিজের দায়িত্ব পালন না করে মিডিয়ার সঙ্গে সেই সব নিয়ে কথা বলছেন।
এই আবহে ফের একবার রাজ্যপালের বিল আটকে রাখা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করল।
বিশ্লেষণ:
সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। এই নির্দেশনার মাধ্যমে রাজ্যপালদের বোঝানো হয়েছে যে, তাঁরা নির্বাচিত সরকারের আইন প্রণয়নের উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।
এই নির্দেশনার ফলে ভবিষ্যতে রাজ্যপালদের দ্বারা বিল আটকে রাখার ঘটনা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।