হালাল পণ্য বিক্রিতে উত্তর প্রদেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো যোগী আদিত্যনাথ

ভারতের উত্তরপ্রদেশে হালাল ট্যাগযুক্ত সকল ধরনের খাবার ও পণ্যে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যটির সরকার। যদি কেউ এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানানো হয়।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, হালাল ট্যাগযুক্ত খাদ্য পণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিতরণ এবং বিক্রয় অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে রপ্তানির জন্য যে হালাল খাবার উৎপাদন করা হয়ে থাকে, সেটির ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে না।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের অফিশিয়াল নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যদি কেউ এই আদেশ অমান্য করে হালাল খাদ্যপণ্য উৎপাদন বা বিক্রি করেন এবং হালাল সার্টিফায়েড ওষুধ, মেডিকেল ডিভাইস বা কসমেটিক্স বিক্রি করেন, তবে ওই ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের দাবি, সরকারি নিয়মে কোথাও ওষুধ বা কসমেটিক্সে হালাল সার্টিফিকেশন মার্কিংয়ের নিয়ম নেই। ১৯৪০ সালের ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স আইনেও এই সংক্রান্ত কোনো উল্লেখ নেই।
একটি সংস্থা ও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে ‘নকল হালাল’ সার্টিফিকেটের নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার দায়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হালাল ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড চেন্নাই, জমিয়াতে উলামা-ই-হিন্দ হালাল ট্রাস্ট দিল্লি, হালাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া মুম্বাই, জমিয়াতে উলামা মহারাষ্ট্রসহ একাধিক সংস্থার বিরুদ্ধে ‘ধর্মীয় ভাবাবেগকে’ ব্যবহার করে বিক্রি বাড়ানোর অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, এসব পণ্যের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। হালাল সার্টিফিকেট দেশের ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ নষ্ট করছে। এর থেকে আয় হওয়া অর্থ ‘দেশবিরোধী কার্যকলাপে’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ‘বিভিন্ন কোম্পানির ক্ষতি’ হচ্ছে।