SPORTS: কোহলির বৃত্ত ভাঙার দিন, সেমিফাইনালে রাখুন নজর

বিরাট কোহলি মাঠে নামলেই রান-এটা যেন চিরন্তন সত্য হয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকাপেও একই অবস্থা। তবে সেটা গ্রুপ পর্বে নকআউটে নয়। যে কোহলি গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে নিয়মিত রান করেছেন সেই কোহলি নকআউটে পুরোই ফ্লপ। পরিসংখ্যানটা দেখলে বিষয়টা আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে। কোহলি এ নিয়ে তার চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলছেন।
সময়ের সেরা এ ব্যাটার বিশ্বকাপে ৩৫ ম্যাচ খেলে ১৬২৪ রান নিয়ে শচীন টেন্ডুলকার ও রিকি পন্টিংয়ের পরেই আছেন। কিন্তু অবাক বিষয় হলো, তাঁর এত ভালো পারফরম্যান্সের সবই এসেছে গ্রুপ পর্বে। নকআউটে সময়ের সেরা এ ক্রিকেটারের ব্যাট একেবারেই হাসেনি। এবার কি সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন তিনি?

২০০৮ সালে শ্রীলংকা বিপক্ষে একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হয় কোহলির। এরপর থেকে আজ অবধি ২৯০ ম্যাচে অংশ নিয়েছেন তিনি। এই সময়ে করেছেন ১৩ হাজার ৬৭৭ রান। সর্বোচ্চ ইনিংস ১৮৩। এই পথে সেঞ্চুরি করেছেন ৪৯টি আর হাফসেঞ্চুরি ৭১টি। এতএত রান যার নামের পাশে তিনি কিনা বিশ্বকাপে নকআউটে পা রাখলেন পথ হারান।

এবারের আগে তিন বিশ্বকাপের কোনোটির নকআউটে জ্বলে উঠতে পারেননি কোহলি। পরিসংখ্যানও সেই কথা বলছে, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মোট ২৯টি ম্যাচ খেলেছেন কোহলি। সেখানে ৭০.৫ গড়ে ১৫৫১ রান করেছেন তিনি। যার মধ্যে ১৫টি হাফ সেঞ্চুরি ও ৪টি সেঞ্চুরি আছে। নকআউট পর্বের ৬টি ম্যাচে ১২.১৬ গড়ে করেছেন ৭৩ রান। এর মধ্যে সর্বোচ্চ রান ৩৫, ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ৩ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৫ রান।

গত দুই আসরে নকআউট থেকে ভারতের ছিটকে যাওয়ার পেছনে অনেকেই তাঁকে দায়ী করেন। তাহলে কি নকআউট ম্যাচের চাপে ভেঙে পড়েন কোহলি? নিন্দুকদের এই সমালোচনার জবাব দেওয়ার মোক্ষম সময় আজ। ওয়াংখেড়ের পরিচিত আঙ্গিনায় তাঁর ব্যাট জ্বলে উঠবে বলেই প্রত্যাশা ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের। স্বাগতিকদের এই আশাবাদের বড় কারণ হলো কোহলির দুর্দান্ত ফর্ম। এবারের আসরে রান সংগ্রহে সবার ওপরে আছেন তিনি। ৯ ম্যাচে ৯৯.০ গড়ে ৫৯৪ রান করেছেন। যেখানে ২টি সেঞ্চুরির সঙ্গে আছে ৫টি হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস। এর মধ্যে অন্তত চারটি ছিল ম্যাচজয়ী ইনিংস। যদিও মাত্র ২টি ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

এবার নেতৃত্বের চাপ নেই বলে ব্যাটিংয়ে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারছেন ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার। অনেকেই এটাকে তাঁর দুর্দান্ত ফর্মের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। এবারের আসরে বেশ কিছু রেকর্ড ভেঙেছেন। আর কিছু রেকর্ড হাতছানি দিচ্ছে তাঁকে। এর মধ্যে আর মাত্র ৬ রান করলেই বিশ্বকাপে কোনো এক আসরে প্রথমবারের মতো ছয়শ রানের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি।

যা পারেননি শচীন টেন্ডুলকারও। আসলে কোহলির ভাগ্যটাই কী এমন! আইপিএলেও তারকাঠাসা দল নিয়ে শিরোপা জিততে পারছেন না। দীর্ঘ সময় বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলছেন কিন্তু ট্রফি জেতা হচ্ছে না। বিশ্বকাপে নকআউট তার কাছে বেশ দূর্বেধ্য হয়ে থাকলো৷ যদিও তিনি এ বিষয় নিয়ে হতাশ নন। তার কাছে এটাও খেলার অংশ।

হয়তো খারাপ কিছুর পরই ভালো খবর আসবে। যার অপেক্ষায় কোহলি সমর্থকরাও। সেই পাঞ্জাবে বেড়ে উঠা কোহলির। বাবা প্রেম কোহলি ছিলেন আইনজীবী। শৈশবে ব্যাট হাতে বাবাকে মুগ্ধ করেছিলেন কোহলি। আর বাবাই তার প্রথম শিক্ষক। এরপর স্থানীয় ক্লাবে নাম লেখান। সেখানে ব্যাট হাতে ঝলক দেখিয়ে অল্প দিনে হৈচৈ ফেলে দেন। এরপর ডাক আসে জাতীয় দল থেকে।

আর পিছু ফেরার সময় নেই। নতুন স্বপ্ন নিয়ে কোহলিও ঝাঁপিয়ে পড়েন। এখন পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। উইকেটে যতক্ষণ থাকেন রানের চাকা ঘুরিয়ে যান। বিশেষ করে তার শর্ট রান বের করার কৌশল ক্রিকেটবোদ্ধাদেরও অবাক করে দেয়। তবু নকআউটের ভয়টা কাটানো যাবে কিনা বলা মুশকিল। তবে প্রতিবারই যে খারাপ করবেন কোহলি সেটাও না। হয়তো আগের ব্যর্থতার হিসাব এবার সুদে আসলে মিটিয়ে দেবেন।