মহাভারতের সাক্ষী, হাজার হাজার বছর ধরে জ্বলছে প্রদীপ! জেনেনিন বাংলার কোন গ্রামে?

বীরভূমের কোটাসুরের মদনেশ্বর শিব মন্দিরে জ্বলছে মহাভারতের যুগের প্রদীপ। এই প্রদীপের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পৌরাণিক কাহিনী।
কথিত আছে, পঞ্চপাণ্ডব ও দেবী কুন্তী যখন অজ্ঞাতবাসে ছিলেন, তখন থেকেই জ্বলে আসছে এই প্রদীপ। অজ্ঞাতবাসের সময় বীরভূমের বীরচন্দ্রপুর লাগোয়া কোনও এক জায়গায় দেবী কুন্তী এই বিশাল আকার প্রদীপ নিয়ে পুজো দিয়েছিলেন কোটাসুরের আরাধ্য দেবতা দেবাদিদেব মহাদেব মদনেশ্বরকে।
দীপাবলির সন্ধ্যায় স্থানীয়দের উদ্যোগে এই প্রদীপটি জ্বালানো হয়। কয়েক লিটার তেল ঢেলে প্রদীপটিকে জ্বালানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, আগেও একাধিকবার দীপাবলির সন্ধ্যায় জ্বালানো হয়েছিল এই প্রদীপটি। তবে প্রত্যেক বছর প্রদীপটি জ্বালানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘদিন ধরেই প্রদীপটি মন্দির চত্বরে পড়ে রয়েছে। ঝড়, বৃষ্টি ও প্রখর রোদের কারণে মন্দিরের বিভিন্ন অংশে ক্ষয় হয়েছে। তবে যেহেতু এই প্রদীপের সঙ্গে মহাভারতের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে, তাই তা সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা।
স্থানীয়দের মতে, প্রদীপটি সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে যুগের পর যুগ তা মহাভারতের ইতিহাস বহন করে নিয়ে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা রামকৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, “পাণ্ডবরা যখন অজ্ঞাতবাসে বীরচন্দ্রপুরে এসেছিলেন, তখন কুন্তীদেবী এই শিবমন্দিরে পুজো করতে বলেই আমরা জানি। স্থানীয়রা কয়েক বছর ধরে দীপাবলির দিন এই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে আসছি। মহাভারতের ইতিহাসে গোটা বিশ্ব সম্বৃদ্ধ। তার অন্যতম সাক্ষী এই প্রদীপ। তাই এই প্রদীপ সংরক্ষণের অসীম গুরুত্ব রয়েছে। আমরা চাই এই প্রদীপ সংরক্ষণ করা করা হোক। তাহলে আগামী প্রজন্মও এই প্রদীপ সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন।”
প্রদীপের সংরক্ষণের দাবি
স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে প্রদীপটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন বীরভূম জেলার জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, “স্থানীয়দের দাবি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। প্রদীপটি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
মহাভারতের ইতিহাসের সাক্ষী এই প্রদীপটি সংরক্ষণ করা হলে তা হবে একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন।