‘জ্যোতিপ্রিয়র মুখ থেকে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি’, ‘স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা

রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গতকাল, ১৩ নভেম্বর, ব্যাঙ্কশাল আদালত চার দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে।

মন্ত্রীর গ্রেফতারির পর থেকে একের পর এক ভুয়ো কোম্পানির হদিস খুঁজে পান তদন্তকারীরা। ইডি সূত্রে অভিযোগ, খাদ্য দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করতেই এই তিন ভুয়ো কোম্পানি খোলা হয়েছিল।

রবিবার আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি করে ইডি। জ্যোতিপ্রিয়র স্ত্রী-মেয়ের মুখোমুখি জেরায় ও তাদের বয়ান সামনে রেখে প্রশ্ন করা হলে ওই কোম্পানির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

ইডির আইনজীবী বলেন, দুর্নীতির টাকা সাদা করতেই ওই তিন ভুয়ো কোম্পানির খোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। পাশাপাশি ওই কোম্পানির ডিরেক্টর পদে স্ত্রী ও মেয়েকেও বসানো হয়েছিল জ্যোতিপ্রিয়র নির্দেশেই।

ইডি আরও জানায়, জ্যোতিপ্রিয় দাবি করেন, আজ থেকে সাত বছর আগে ২০১৬ সালে আয়কর দফতরের ডিসক্লোজার স্কিমে ওই টাকা ডিসক্লোজ করে আয়কর জমা দিয়েছেন। যদিও মন্ত্রীর দাবি মানতে নারাজ কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা। তাদের মতে, ঋণের টাকা আয়কর দফতরের ডিসক্লোজার স্কিমে দেখানো যায় না।

এর পেছনে দুর্নীতির টাকা সাদা করার চক্র রয়েছে বলে ধারণা ইডির। জানা যাচ্ছে এই বিষয়ে আয়কর দফতরের থেকেও তথ্য তলব করতে চলেছে ইডি।

প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতি তদন্তের গ্রেফতারের পর থেকে ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমান ও জ্যোতিপ্রিয়র যোগসূত্র নিয়ে শোরগোল। ইডির অভিযোগ ছিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের স্ত্রী ও মেয়ের অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা পাঠিয়েছে বাকিবুর। জ্যোতিপ্রিয় নাকি সেকথা স্বীকারও করে নিয়েছেন। এমনই দাবি করে ইডি।

যদিও গতকাল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলার সময় বাকিবুর রহমানের কাছ থেকে ৯ কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, “ছেড়ে দিন। গল্প ছেড়ে দিন। ওসব গল্প ছেড়ে দিন।”

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের জেল হেফাজত নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাপানউঠান চলছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করছে। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছেন, এই ঘটনায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দোষ প্রমাণিত হলে তিনি অবশ্যই শাস্তি পাবেন।