“একের পর এক মামলা দায়ের”-পাঁচ বছরেই ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট’ বিশ্বভারতীর অন্তত ৪০০ জন!

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর পদত্যাগের পর তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক ও পড়ুয়ারা। তাঁরা দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে দুর্নীতি, স্বৈরাচারিতা ও বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর পাঁচ বছরের ‘শাসন’কালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০০ শিক্ষক, আধিকারিক ও পড়ুয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কাউকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, কাউকে শো-কজ় করা হয়েছে, কাউকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনকী কয়েকজনের চাকরি পর্যন্ত গিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির অভিযোগ, বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিলেন। শিক্ষক, আধিকারিক ও পড়ুয়াদের স্বাধীনতা হরণ করেছিলেন।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের তদন্তও চলছে। গত বছর তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় একটি প্রশ্নের জবাবে বিশ্বভারতী জানায়, জেলা আদালত এবং কলকাতা হাইকোর্ট মিলিয়ে মোট ৯১টি মামলা হয় কর্তৃপক্ষ এবং উপাচার্যের বিরুদ্ধে।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর পদত্যাগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য সঞ্জয়কুমার মল্লিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত সমস্যার সমাধানের জন্য তিনি কাজ করবেন। তিনি বিদ্যুতের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে রাজ্য সরকারের দূরত্ব মেটানোরও কথা বলেছেন।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে দুর্নীতি, স্বৈরাচারিতা ও বৈষম্য বৃদ্ধি
শিক্ষক, আধিকারিক ও পড়ুয়াদের স্বাধীনতা হরণ
৪০০ শিক্ষক, আধিকারিক ও পড়ুয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
জেলা আদালত এবং কলকাতা হাইকোর্টে ৯১টি মামলা
বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বলেছেন, তিনি যাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন তাঁরা ‘নটোরিয়াস’। তিনি দুর্নীতি ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
সঞ্জয়কুমার মল্লিকের প্রতিশ্রুতি
সঞ্জয়কুমার মল্লিক বলেছেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত সমস্যার সমাধানের জন্য কাজ করবেন। তিনি বিদ্যুতের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে রাজ্য সরকারের দূরত্ব মেটানোরও কথা বলেছেন।