হামাসের সুড়ঙ্গ ধ্বংস করতে সৈন্যদের বিশেষ ট্রেনিং, বড় হামলার পরিকল্পনা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের

হামাসের টানেল ধ্বংসে এবার নামবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অভিজাত ইউনিট ‘ডেল্টা ফোর্স’। ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় আকস্মিক আক্রমণের অংশ হিসাবে ইউএস ডেল্টা ফোর্স কমান্ডোদের তত্ত্বাবধানে নার্ভ গ্যাস এবং রাসায়নিক অস্ত্র দিয়ে হামাসের টানেল প্লাবিত করবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই’কে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফাঁস হওয়া এক নথির তথ্য অনুসারে, হামাসের সুড়ঙ্গে প্রবেশ, প্রায় ২২০জন জিম্মিকে উদ্ধার ও হাজারো হামাস যোদ্ধাদের হত্যার জন্য নার্ভ গ্যাস ও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে আকস্মিক হামলার সুবিধা নেয়ার আশা করছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। মিডল ইস্ট আই-এর পক্ষ থেকে স্বতন্ত্রভাবে ফাঁস হওয়া তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র বলেছে, পরিকল্পনা হলো আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ নার্ভ গ্যাস ও রাসায়নিক অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে হতচকিত করে দেওয়া। সুড়ঙ্গগুলোতে বিপুল পরিমাণ নার্ভ গ্যাস পাম্প করা হবে। মার্কিন ডেল্টা ফোর্স এই কাজে নজরদারি করবে। এই গ্যাস মানুষের দেহকে ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার জন্য নিশ্চল করে দেয়।

সূত্র আরো বলেছে, এই সময়ের মধ্যে সেনারা সুড়ঙ্গে প্রবেশ, জিম্মিদের উদ্ধার ও হাজারো হামাস যোদ্ধাদের হত্যা করবে।

সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউজ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

গাজায় ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযানে বিভিন্নভাবে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন প্রায় প্রতিদিন ফোনে কথা বলছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের সঙ্গে। শহুরে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা ইসরায়েল পৌঁছেছেন। দুটি বিমানবাহী রণতরি ইসরায়েলের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

ডেল্টা ফোর্স হলো যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর স্পেশাল অপারেশনস ফোর্স। জিম্মি উদ্ধার, সন্ত্রাসদমন, হত্যা বা আটক মিশনের জন্য তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের কাছ থেকে জিম্মি উদ্ধারের অভিজ্ঞতা রয়েছে এই বাহিনীর।

ফাঁস হওয়া নথির তথ্য অনুসারে, ইসরায়েল তাদের স্থল অভিযান পিছিয়ে দিয়েছে বলে যে তথ্য সামনে আসছে তা ভুয়া। বহুমুখী আকস্মিক হামলার মাধ্যমে হতচকিত করে দেওয়ার পরিকল্পনা সফল করতে এমন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ইসরায়েলি কমান্ডোরা উত্তর গাজা ও উপকূল দিয়ে প্রবেশ করবে।

সূত্র দাবি করেছে, হামলার অভিযানিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এরইমধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।

মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটি ‘যুদ্ধ বিভাগ’র সভা এবং পরিকল্পনা অধিবেশনে অংশ নিতে ইসরায়েল সফর করেন।

একটি পোস্টে বাইডেন ভুলভাবে একটি ছবি শেয়ার করেন। যাতে দেখানো হয়েছে, তিনজন ডেল্টা ফোর্স কমান্ডার ইসরায়েলি সেনাকে জিম্মি মুক্তি করার অপারেশনের পরামর্শ দিচ্ছেন। পরে তা মুছে ফেলা হয়।

বুধবার সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন বলা হয়, আরো মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার জন্য ইসরায়েল স্থল অভিযান বিলম্বিত করছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আক্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এদিকে, ইসরায়েলের মিত্ররা আশঙ্কা করছে, এ পদক্ষেপ গাজার ফাঁদে পা দেওয়ার মতো হতে পারে। তারা ধারণা করছে হামাস এবং তেহরানে তার সমর্থকরা অবশ্যই ইসরায়েলের অনুপ্রবেশের পরে একটি ভয়ংকর আক্রমণের মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা করছে।

হামাসের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহর বোমা তৈরির দক্ষতা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। হামাসের এখন বিমানবিধ্বংসী ক্ষমতা রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান রোববার বলেছেন, এই অঞ্চলে অবিরাম গণহত্যা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ইসরায়েলি সেনাদের জন্য গুরুতর ও তিক্ত পরিণতি বয়ে আনতে পারে।