ISRLvsHAM: শেষ হয়েছে ইসরায়েলের দেয়া আল্টিমেটাম, এখন কী ঘটবে গাজায়? জেনেনিন বিস্তারিত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চল থেকে স্থানীয় বেসামরিক বাসিন্দাদের দক্ষিণাঞ্চলে চলে যাওয়ার জন্য দখলদার ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী যে ছয় ঘণ্টার আল্টিমেটাম বেধে দিয়েছিল তার সময় শেষ হয়েছে।
শনিবার (১৪ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় ইসরায়েলি বাহিনীর এই আল্টিমেটামের সময়সীমা শেষ হয়েছে। আল্টিমেটামের সময় ফুরিয়ে যাওয়ায় এখন পরবর্তীতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে সেই বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এই পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের গাজা শহর থেকে উপত্যকার দক্ষিণ অংশে চলে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বেধে দেওয়া ছয় ঘণ্টার আল্টিমেটাম শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় শেষ হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বাসিন্দাদের গাজার দক্ষিণ উপত্যকার দিকে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেছে। তবে সর্বাত্মক অবরোধ আরোপের কারণে পুরো উপত্যকা বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এই বার্তা বাসিন্দাদের কাছে ব্যাপকভাবে পৌঁছেছে কি না তা স্পষ্ট নয়।

উত্তর গাজায় বসবাসকারী ১১ লাখ মানুষকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার কথা বলার একদিন পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে এই নির্দেশ এসেছে। আইডিএফ গত ৭ অক্টোবর গাজার ক্ষমতাসীন সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাসের ভয়াবহ হামলা আর অনুপ্রবেশের প্রতিশোধে উপত্যকায় টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। চলমান হামলার মাঝেই গাজা উপত্যকায় স্থল অভিযান চালানোর উদ্দেশ্যে সীমান্তে লাখ লাখ সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম জড়ো করেছে ইসরায়েল।

শনিবার সকালের দিকে আইডিএফের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিচার্ড হেচট বলেন, গাজায় ইসরায়েলের আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথের অবরোধ সপ্তম দিনেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ তবে গাজায় স্থল অভিযান কখন শুরু হতে পারে সে সম্পর্কে কোনও তথ্য জানাননি তিনি।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অ্যারাবিক মুখপাত্র অভিশায় আদ্রায়ি বলেছেন, সেনাবাহিনী স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নির্দিষ্ট সড়কে লোকজনকে নিরাপদ চলাচলের অনুমতি দেবে। বাসিন্দাদের এই সময়ের ব্যবহার করে বেইত হানুন থেকে খান ইউনিস পর্যন্ত দক্ষিণ দিকে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়াও আল-শাতে, আল-রিমাল এবং পশ্চিমের আল-জায়তুন এলাকার বাসিন্দাদের দালদুল ও আল-সানা রাস্তা ধরে সালাহ আল-দিন এবং আল-বাহর রাস্তার দিকে সরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার গাজা উপত্যকায় খাদ্য, জ্বালানি ও জল প্রবেশের ওপর সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের সর্বাত্মক অবরোধ আরোপের ঘোষণাকে ‘সামষ্টিক শাস্তি’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে সমালোচনা করেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করায় উপত্যকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সিএনএন’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র মেজর (অব.) ডোরন স্পিলম্যান বলেছেন, গাজার বেশিরভাগ মানুষের এখন ইন্টারনেট সংযোগ নেই বলে আইডিএফ বিমান থেকে নতুন নিরাপদ রুট সম্পর্কে লিফলেট ফেলে দিচ্ছে। তবে সিএনএন জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মবিষয়ক সংস্থার একজন স্কুল কর্মকর্তা, স্থানীীয় একজন প্যারামেডিক এবং একজন সাংবাদিকের সাথে কথা বলেছে, যারা ইসরায়েলের এই লিফলেট ফেলার বিষয়ে জানেন না বলে জানিয়েছেন।

উত্তর গাজা উপত্যকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ফিলিস্তিনিদের গাড়িবহরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের পালিয়ে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলের ঘোষিত পথ ধরে চলে যাওয়ার সময় শনিবার ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার এই ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র তথ্য অনুযায়ী, গাজার উত্তর থেকে দক্ষিণের দিকে চলে গেছে ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সালাহ আল-দীন সড়ক। ফিলিস্তিনিদের পালিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই সড়কটি। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই সড়কে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা হয়েছে।

গাজার বাসিন্দাদের পালিয়ে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলের ঘোষিত রুটে ভয়াবহ বিস্ফোরণের অন্তত পাঁচটি ভিডিও যাচাই-বাছাই করে দেখেছে সিএনএন। উত্তর গাজা থেকে দক্ষিণের দিকে বাসিন্দাদের চলে যাওয়ার সময় তাদের ওপর হামলার সত্যতা এসব ভিডিওতে মিলেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক মরদেহ রাস্তায় পড়ে আছে। এছাড়া রাস্তার আশপাশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আলামতও পাওয়া গেছে।