“রেলে চাকরি করেও বড় ছেলে দেখেন না!”-মায়ের কান্না শুনে বড় নির্দেশ বিচারপতি গাঙ্গুলির

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে হঠাৎই হাজির হন এক বৃদ্ধা। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বিচারপতিকে জানান, তার বড় ছেলে ভালো চাকরি করেও তাকে দেখেন না।
হাওড়ার কাঁচরাপাড়ার ৬৮ বছর বয়সী স্বপ্না কর্মকার তার বড় ছেলের অবহেলার শিকার। তার বড় ছেলে শিয়ালদহে রেলে চাকরি করে। কিন্তু মায়ের দেখাশোনা তো করেই না, উপরন্তু বাড়িও বিক্রি করে দিয়েছে।
এই অভিযোগ নিয়ে স্বপ্না কর্মকার গত সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে হাজির হন। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বিচারপতিকে জানান, তার ছোট ছেলে রিকশা চালিয়ে বহু কষ্টে তার দেখাশোনা করে।
বিচারপতি বৃদ্ধার অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন। এরপরই বৃদ্ধার বড় ছেলের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি প্রথমে বৃদ্ধাকে ছেলেকে আদালতে নিয়ে আসার জন্য বলেন। কিন্তু পরে বৃদ্ধার শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে বৃদ্ধার বড় ছেলেকে খবর পাঠাতে বলেন।
বিচারপতি নির্দেশ দেন, বৃদ্ধার বড় ছেলেকে মঙ্গলবারই আদালতে আসার বার্তা পৌঁছে দিতে। প্রয়োজনে পুলিশ দিয়ে বৃদ্ধার ছেলেকে আদালতে আনার নির্দেশ দেন বিচারপতি। বিচারপতি বৃদ্ধার সমস্যা সমাধানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করারও আশ্বাস দিয়েছেন।