যুদ্ধ প্রস্তুতির ঘোষণা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর, বৈঠকে বসছেন নেতানিয়াহু

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে শনিবার ভোরে পাঁচ হাজারেরও বেশি রকেট হামলা চালিয়েছে হামাস। বড় ধরনের এই হামলার পর ‘যুদ্ধ প্রস্তুতির’ ঘোষণা করেছে ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনী।
সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলর এক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, হামাস ছিটমহলের বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁচ হাজার রকেট ছুড়েছে। এতে গাজার খাম এলাকায় ৭০ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া আশকেলন অঞ্চলে আহত হয়েছে দুইজন।
এক বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করে হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-ক্বাসাম ব্রিগেডের নেতা মোহাম্মদ দায়েফ বলেছেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। আমরা ফিলিস্তিনিদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা এরইমধ্যে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ২০ মিনিটে পাঁচ হাজার রকেট ও শেল নিক্ষেপ করেছি।
বড় ধরনের এই রকেট হামলাকে ‘অপারেশন আল-আকসা স্টর্ম’ হিসেবে ঘোষণা করে আল-ক্বাসাম ব্রিগেডপ্রধান আরো বলেন, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর অবস্থান, বিমানবন্দর, বিভিন্ন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আমরাই আগে হামলা চালিয়েছি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি বসতি ও শহরগুলোর দিকে রকেট নিক্ষেপ করছে হামাস।
জানা গেছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী এরইমধ্যে সেনা সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এছাড়া দেশে যুদ্ধ প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছে।
দেশটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, হামাসকে এ হামলার পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রকেট নিক্ষেপের পরেই তেল আবিবসহ ইসরায়েলের অনেক জায়গায় বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টায় গাজা থেকে ইসরায়েলে রকেট ছোড়া হয়। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে।
জানা গেছে, গাজা থেকে ইসরায়েল ভূখণ্ডে শুধু রকেট হামলাই নয়, হামাসের যোদ্ধারা সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলে প্রবেশও করেছে।
এ হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বেনজামিন নেতানিয়াহু।