OMG! ২০ সেকেন্ডের ভয়ানক কাঁপুনি! মরক্কোয় মৃত বেড়ে ৬০০ জন, ভাইরাল ভূমিকম্পের ভিডিও

শুক্রবার রাতে মরক্কোর মারাকেশ এলাকায় ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৮। মরক্কোর জিওফিজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.২।

ভূমিকম্পের উৎসস্থল আটলাস পাহাড়ের ওকাইমেডেন এলাকা বলে জানা গিয়েছে। কম্পনের ফলে মরক্কোর বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে মরক্কো প্রশাসন। সেখানকার অন্তর্দেশীয় মন্ত্রকের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভূমিকম্পে ৬৩২ জনের মৃত্য়ু হয়েছে। মারাকেশ ছাড়াও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে আল-হাউজ, ওয়ারজাজেট, আজিলাল, চিচাউয়া ও তারউদান্তের মতো পুর এলাকার। ধ্বংসস্তূপ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ১৫৩ জনকে। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ২০ সেকেন্ডের বেশি সময় ধরে কম্পন অনুভূত হয়। যার জেরে চোখের নিমেষে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে একের পর এক বহুতল। উল্লেখ্য মরক্কোর মারাকেশ এলাকা প্রাচীন ও ঐতিহ্যশালী শহর হিসেবে পরিচিত। ভূমিকম্পে সুপ্রাচীন মসজিদ ভেঙে মাটিতে মিশে গিয়েছে বলে খবর মিলেছে।

মরক্কোর পাশাপাশি পর্তুগাল ও স্পেনেও কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের আফটার শকের কারণে কেঁপে ওঠে ইউরোপের ওই দুই দেশের বেশ কিছু এলাকা। তবে সেখানে হতাহতের কোনও খবর মেলেনি।

ভূমিকম্পের পর সারা বিশ্বের নেতারা নিহতদের প্রতি শোকজ্ঞাপন করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মরক্কোকে সব ধরনের সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে (আগে নাম ছিল টুইটার) একটি পোস্ট করেন। সেখানে মরক্কোকে সব ধরনের সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “ভূমিকম্পে মরক্কোয় বহু মানুষের মৃত্য়ুতে শোকাহত। এই দুঃখের সময় মরক্কোবাসীর পাশে আছি। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই।” আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।

চলতি বছরের শুরুতেই ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় তুর্কির গাজিয়াতেপ এলাকা। কম্পন অনুভূত হয়েছিল পাশের সিরিয়াতেও। দুই দেশ মিলিয়ে ভূমিকম্পে ২৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্য়ু হয়েছিল।