WBCS: চা দোকানি বাবার অভাবের সংসার, WBCS-এ চমকে দেওয়া ফল করলেন রামিজ

কৃষ্ণনগরের রামিজ রাজা তার সাফল্যের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ করে দিলেন যে, মেধা, অধ্যবসায়, এবং পরিশ্রমই আসল। তিনি রাজ্যের ডব্লিউবিসিএস (এগজিকিউটিভ) পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১৮তম স্থান দখল করেছেন। তার এই সোনায় বাঁধানো রেজাল্ট সকলের জন্য অনুপ্রেরণা। জেলার আইকন এখন এই কৃতী।
রামিজ রাজার জন্ম ও বেড়ে ওঠা নদিয়া জেলার বড়োচাঁদঘর পঞ্চায়েতের মোলান্দি গ্রামে। তার বাবা মোতালেব শেখ একজন চা দোকানি। ছোট থেকেই মেধাবী ছাত্র ছিলেন রামিজ। অর্থকষ্ট থাকা সত্ত্বেও তিনি পড়ালেখায় মনোনিবেশ করেন। মাধ্যমিকে ৭৫ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে আল আমিন মিশন থেকে বিজ্ঞান শাখায় ৮৩ শতাংশ নম্বর নিয়ে দ্বাদশ পাশ করেন। পরে বহরমপুরের কলেজ থেকে অঙ্কে স্নাতক পাশ করেন। এরপরই তিনি ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন।
২০১৯ সাল থেকে তিনবার ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষা দেন রামিজ। প্রথমবার ব্যর্থ হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। দ্বিতীয়বারও ব্যর্থ হন তিনি। কিন্তু তৃতীয়বারই সফল হন তিনি। তার এই সাফল্যে গ্রামের সবাই গর্বিত।
রামিজ রাজা বলেন, “আমি আমার সাফল্য আমার পরিবার, শিক্ষক এবং বন্ধুদের কাছে উৎসর্গ করছি। আমি চাই আমার এই সাফল্য গ্রামের অন্যান্য মেধাবী ছাত্রদের অনুপ্রাণিত করুক।”
রামিজ রাজার বাবা মোতালেব শেখ বলেন, “আমার ছেলের এই সাফল্যে আমি খুবই খুশি। আমি সবসময়ই তার পড়ালেখার জন্য সাহায্য করেছি। আমি চাই সে আরও উঁচুতে উঠুক।”
রামিজ রাজার ছোট দুই বোন তার সাফল্যে আনন্দিত। তারা বলেছে, “আমরা আমাদের দাদার জন্য গর্বিত। সে আমাদের জন্য আদর্শ।”
রামিজ রাজার সাফল্য প্রমাণ করে যে, দরিদ্রতা কখনই সাফল্যের অন্তরায় হতে পারে না। মেধা, অধ্যবসায়, এবং পরিশ্রম থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।