“আর্থিক দুর্দশা দেখে নম্বর ব্লক করেছিলেন বন্ধুরা”-তবুও হার মানেননি ’12thFail’ খ্যাত বিক্রান্ত

আইপিএস কর্মকর্তা মনোজ শর্মা ও আইআরএস কর্মকর্তা শ্রদ্ধা জোশি দম্পতির জীবনের অনুপ্রেরণামূলক গল্প নিয়ে নির্মিত ‘টুয়েলভথ ফেল’ সিনেমাটি গত বছর দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। কম বাজেটের এই সিনেমাটি ২০২৩ সালে বলিউডের অন্যতম সফল সিনেমা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মনোজের চরিত্রে অভিনেতা বিক্রান্ত ম্যাসির প্রাণবন্ত অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। টেলিভিশন থেকে শুরু করে বড় পর্দা, নিজের অভিনয় প্রতিভার জোরে বিক্রান্ত আজ বহু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

গতকাল, ৩ এপ্রিল ছিল এই প্রতিভাবান অভিনেতার জন্মদিন। নিজের অভিনয় দক্ষতার ওপর ভর করেই তিনি আজ সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন। গুগলে তাঁর নাম লিখলেই ‘টুয়েলভথ ফেল’ সিনেমাটির প্রসঙ্গ উঠে আসে। এই সিনেমাটিই এখন বিক্রান্তের পরিচয়ের প্রধান অংশ। সিনেমার মনোজের মতোই যেন বাস্তব জীবনেও কঠিন পথ পেরিয়ে এসেছেন বিক্রান্ত। নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে বলিউডে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য তাঁকে বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে।

প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিক্রান্ত ম্যাসি তাঁর জীবনের কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, একসময় দিনের পর দিন অর্থকষ্টে ভুগেছেন। সেই দুঃসময়ে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। এমনকি আর্থিক দুর্দশার কারণে বহু বন্ধু তাঁর ফোন নম্বর পর্যন্ত ব্লক করে দিয়েছিল। তবে সেই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার সর্বদা পাশে ছিল। বিক্রান্ত বলেন, ‘একসময় লোকাল ট্রেনে ঝুলতে ঝুলতে জীবন কেটেছে। বাড়ির আর্থিক অবস্থা দেখে ইন্ডাস্ট্রির অনেক বন্ধু আমাকে দূরে সরিয়েছিল। এমনকি আমার আর্থিক দুর্দশা দেখে অনেকেই আমার ফোন নম্বর ব্লক করে দিয়েছিল। তবে আমি আমার পরিবারকে সব সময় পাশে পেয়েছি। কিছু ভালো বন্ধু আছে, যাদের আমার সফলতা বা ব্যর্থতার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তবে আমি নিজের প্রতি কখনো আস্থা হারাইনি।’

আইপিএস কর্মকর্তা মনোজ কুমার শর্মার জীবন অবলম্বনে ঔপন্যাসিক অনুরাগ পাঠকের লেখা উপন্যাস ‘টুয়েলভথ ফেল’ থেকে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক বিধু বিনোদ চোপড়া। সিনেমাটি ২০২৩ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এবং ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিক্রান্তকে তাঁর ক্যারিয়ারের ‘টুয়েলভথ ফেল’ ও ‘ছপাক’-এর মতো বেশিরভাগ সিনেমায় সাধারণ মানুষের চরিত্রে দেখা গেছে। অভিনেতা জানান, তিনি এই ধরনের চরিত্রেরই সন্ধানে থাকেন এবং ভেবেচিন্তেই এমন চরিত্র বেছে নেন। তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে চাই। আজও বাড়ির রেশন আমি আনতে যাই। আমি আমার জীবনকে সাদামাটা রাখতে চাই।’

বিক্রান্ত আরও জানান, ‘সফলতা, খ্যাতি—এসব নিয়ে আমার জীবন নয়। সারা জীবন অভিনয় করার কোনো পরিকল্পনা নেই আমার। তবে পরিচালনা করতে চাই। সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়াতে চাই।’

উল্লেখ্য, গত বছর এই অভিনেতা হঠাৎ করেই অভিনয় ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘গত কয়েক বছর ও তার আগের দারুণ সময় ছিল। আমাকে যাঁরা সব সময় সমর্থন করে এসেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। কিন্তু জীবনে আরও এগিয়ে যাওয়ার সময় আমি একজন স্বামী, বাবা, সন্তান ও অভিনেতা হিসেবে উপলব্ধি করেছি যে এবার এক নতুন করে শুরু করার পালা এসেছে, আর এসেছে বাড়ি ফেরার সময়।’

বিক্রান্ত সেই সময় ‘ইয়ার জিগরি’ ও ‘আখোঁ কি গুস্তাখিয়াঁ’ এই দুটি সিনেমার কাজ করছিলেন। এই দুটি ছবির প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেছিলেন, ‘২০২৫-এ আমাদের শেষ দেখা হবে। গত দুটি ছবি ও গত কয়েক বছরের অনেক স্মৃতি ঝাঁপিতে আছে। সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আপনাদের সবার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’ বিক্রান্তর এই পোস্টে নেট-দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল এবং তাঁর অসংখ্য অনুরাগী অভিনেতার অবসর নেওয়ার খবরে হতবাক হয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিক্রান্ত অভিনয় চালিয়ে যাবেন কিনা, তা সময়ই বলবে।

Related Posts

© 2025 Tech Informetix - WordPress Theme by WPEnjoy