‘আমি যেখানেই যাই, আগুন ধরে যায়’ বনে আগুন লাগিয়ে শর্ট ভিডিও, নিন্দা নেটদুনিয়ায়

‘বনে আগুন, মনে ফাগুন’ বোধহয় একেই বলে। পিছনে দাবানলে পুড়ছে বন, সামনে রুপোলি রঙের গাউন পরে ক্যামেরার সামনে ‘পোজ’ দিয়ে চলেছেন তিনি।

পাকিস্তানের এক টিকটক তারকা হুমাইরা আসগরের এমন কাণ্ডে কার্যত হইচই পড়ে গিয়েছে নেটমাধ্যমে। শুধু নিন্দা নয়, বন্যপ্রাণ ধ্বংস করার অপরাধে হুমাইরাকে গ্রেপ্তারের কথা বলেছেন নেটিজেনদের কেউ কেউ।

নেটমাধ্যমে ‘ফলোয়ার’ বৃদ্ধির নেশায় মাঝেমধ্যেই বিচিত্র সব কাণ্ডকারখানা করতে দেখা যায় এই ধরনের তারকাদের। সপ্তাহ খানেক আগেই বনে আগুন লাগিয়ে ভিডিও তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আরেক পাকিস্তানি ‘টিকটকার’।

ওই নেটমাধ্যমে হুমাইরার অনুরাগীর সংখ্যা এক কোটিরও বেশি। ‘আমি যেখানেই যাই আগুন ধরে যায়’ লিখে নেটমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করেন হুমাইরা। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। নিন্দা শুরু হতেই তড়িঘড়ি মুছে ফেলা হয়েছে ভিডিওটি।

হুমাইরার অবশ্য দাবি, তিনি নিজে থেকে আগুন লাগাননি, পরিবেশের ক্ষতি করার কোনও ইচ্ছাও ছিল না তার। টিকটক কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ভিডিয়ো প্রকাশ করা একেবারেই নিষিদ্ধ।

এমনিতেই গ্রীষ্মের প্রখর তাপে পুড়ছে পাকিস্তান। কোনও কোনও অংশে পারদ ছুঁয়েছে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের জন্য দায়ী করছেন অনিয়ন্ত্রিত গাছকাটাকে।

কোশার থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর সূত্রে সিডিএ’র এক সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, সম্প্রতি ভাইরাল একটি ভিডিওতে ডলি নামে এক টিকটকারকে বনে আগুন লাগানোর পর তার সামনে নাচতে দেখা গেছে। জায়গাটি মারগাল্লা হিলস ন্যাশনাল পার্কের অংশ, যেখানে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে বনের বাস্তুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

Related Posts

© 2024 Tech Informetix - WordPress Theme by WPEnjoy