ডিসকাউন্টে আইফোন কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন, জেনেনিন কী কী?

বর্তমান বাজারে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন শপ এবং রিসেল মার্কেটে আকর্ষণীয় ডিসকাউন্টে আইফোন বিক্রি করা একটি জনপ্রিয় কৌশল। তবে এই অবিশ্বাস্য অফারের আড়ালে লুকিয়ে থাকে নানা ধরনের প্রতারণা এবং প্রযুক্তিগত ঝুঁকি। সামান্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন না করলে আপনি সহজেই বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
ডিসকাউন্টে বা কম দামে আইফোন কেনার আগে আপনাকে অবশ্যই যে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করতে হবে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ডিভাইসটি ‘রিফারবিশড’ না ‘নতুন’ যাচাই করুন
অনেক বিক্রেতা রিফারবিশড (Repaired) বা রিকন্ডিশন্ড ফোনকে নতুন বলে চালিয়ে দেন। এই ফোনগুলির হার্ডওয়্যার আগেই মেরামত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
-
যাচাই পদ্ধতি: আইফোনের সেটিংস-এ যান এবং মডেল নম্বরে কী আছে তা দেখুন।
-
‘M’ দিয়ে শুরু: সাধারণত এটি একটি নতুন ডিভাইস।
-
‘F’, ‘N’ বা ‘R’ দিয়ে শুরু: এগুলি রিফারবিশড বা রিকন্ডিশন্ড ডিভাইস হতে পারে।
-
২. অ্যাক্টিভেশন বা আইক্লাউড লক আছে কি না দেখুন
চুরি করা বা আসল মালিকের দ্বারা লক করা আইফোন প্রায়শই ডিসকাউন্টে বিক্রি করা হয়। অ্যাক্টিভেশন লক থাকলে ফোনটি কখনোই সম্পূর্ণ ব্যবহার করা যায় না।
-
যাচাই পদ্ধতি: ফোনটি হাতে নিয়ে একবার পরীক্ষা করুন এবং নিশ্চিত করুন যে সেটি অ্যাক্টিভেশন লক-মুক্ত রয়েছে। রিস্টোর করার পরও আইক্লাউড লক আসছে কি না, তা পরীক্ষা করুন।
৩. IMEI ও সিরিয়াল নম্বর মিলিয়ে নিন
প্রতারকরা প্রায়ই ভুয়া বক্স বা অন্য ফোনের বক্স ব্যবহার করে প্রতারণা করে।
-
যাচাই পদ্ধতি: ফোনের বক্সে লেখা সিরিয়াল নম্বর এবং ডিভাইসের সেটিংসের সিরিয়াল নম্বর অবশ্যই মিলিয়ে দেখুন। এর পাশাপাশি, অ্যাপলের অফিসিয়াল সাইটে গিয়ে ওই সিরিয়াল নম্বর দিয়ে ফোনটির ওয়ারেন্টি ও আসল স্ট্যাটাস যাচাই করে নিতে পারেন।
৪. ব্যাটারি হেলথ পরীক্ষা করুন
কম দামে আইফোন বিক্রির অন্যতম ফাঁদ হলো কম ব্যাটারি হেলথ (Battery Health) যুক্ত ফোন বিক্রি করা। ব্যাটারি হেলথ ৮৫ শতাংশের নিচে হলে দ্রুত চার্জ কমে যায় এবং ব্যবহার অভিজ্ঞতা খারাপ হয়।
-
যাচাই পদ্ধতি: সেটিংস-এ গিয়ে ব্যাটারি হেলথ চেক করুন। কমপক্ষে ৮৫ শতাংশের বেশি হেলথ থাকলে তবেই সেই ফোন কেনা উচিত।
৫. ফেক ডিসপ্লে বা নন-অরিজিনাল পার্টস দেখুন
নন-অরিজিনাল স্ক্রিনযুক্ত আইফোনে কালার একুরেসি, ব্রাইটনেস এবং টাচ রেসপন্স খারাপ হয়।
-
যাচাই পদ্ধতি: আইফোন এক্স (iPhone X) এবং পরবর্তী মডেলগুলিতে সেটিংসে গিয়ে পার্টস অ্যান্ড সার্ভিস হিস্টোরি দেখে নেওয়া যায় যে স্ক্রিন বা ব্যাটারি পরিবর্তন করা হয়েছে কি না।
৬. অস্বাভাবিক কম দাম দেখলেই সন্দেহ করুন
আইফোনের দাম কখনোই অস্বাভাবিকভাবে কম হয় না। খুব বেশি ডিসকাউন্ট দেখলে সেটি সাধারণত প্রতারণারই ইঙ্গিত।
-
পরামর্শ: সোশ্যাল মিডিয়া পেজ, অগোছালো ওয়েবসাইট বা নতুন অনলাইন শপে অনেক জালিয়াতি হতে পারে। দাম দেখেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করুন।
৭. পারফরম্যান্স টেস্ট এবং আনুষঙ্গিক ফিচার্স যাচাই
কম দামের ফোনে অনেক ছোট কিন্তু জরুরি ফিচার্স কাজ নাও করতে পারে।
-
যাচাই পদ্ধতি: ফোনটি হাতে নিয়ে ক্যামেরা, স্পিকার, টাচ, ফেস আইডি/টাচ আইডি, চার্জিং, ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথ— এই সব গুরুত্বপূর্ণ ফিচার্স ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।
নিরাপদ উপায়: সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো অনুমোদিত অ্যাপল রিটেইলার বা বিশ্বাসযোগ্য দোকান থেকে কেনা। দাম কিছুটা বেশি হলেও এখানে আপনি অরিজিনাল ডিভাইস, ভেরিফাইড ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত পাবেন।