Laptop: শীর্ষ গেমিং ল্যাপটপ, জেনেনিন কি কি ফিচার দেখে কিনবেন?

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের কম্পিউটার বা ল্যাপটপের বাজারেও। পাশাপাশি আমদানীকৃত কম্পিউটার পণ্যে বাড়তি শুল্ক্ক আরোপ করায় ল্যাপটপের দাম এখন বেশ চড়া। এমনিতেই সাধারণ কাজে ব্যবহার করা ল্যাপটপের চেয়ে গেমিং ল্যাপটপের দাম সব সময়ই বেশিই থাকে। কেননা, গেমিংয়ের জন্য প্রয়োজন উচ্চ পারফরম্যান্সের ল্যাপটপ। গেমিং ল্যাপটপে প্রয়োজন হয় বাড়তি ক্ষমতার প্রসেসর, র‌্যাম, মাদারবোর্ড, এসএসডি কার্ড ও গ্রাফিক্স কার্ডের মতো যন্ত্রাংশ। শীর্ষ ব্র্যান্ডের পিসি নির্মাতার অধিকাংশেরই রয়েছে বিভিন্ন মডেলের গেমিং ল্যাপটপ। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে আসুস, রেজর, গিগাবাইট, এমএসআই, লেনোভো ও এলিয়েনওয়্যারের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে।

কেনার আগে
গেমিং ল্যাপটপ কিন্তু আর দশটা সাধারণ কাজের জন্য নয়। তার মানে এই নয়, গেমিং ল্যাপটপে সাধারণ কাজ করা যায় না। বরং অন্য ল্যাপটপের চেয়ে গেমিং ল্যাপটপে সাধারণ কাজে আরও ভালো অভিজ্ঞতা মেলে। গেমিংয়ের জন্য বাজারে রয়েছে নানা ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ। তবে গেমিং ল্যাপটপ কেনার আগে দেখে নেওয়া দরকার আপনি যে গেমস ল্যাপটপে খেলতে চান, তার জন্য উপযুক্ত কিনা। কেননা বাজেট স্বল্পতায় হয়তো আপনি এমন ল্যাপটপ কিনলেন, যার কনফিগারেশন আপনার প্রিয় গেমস খেলার জন্য পর্যাপ্ত নয়। ল্যাপটপে কোনো রকম বাধা ছাড়াই গেম খেলার অভিজ্ঞতা পেতে হলে দরকার হাই কনফিগারের ল্যাপটপ। সাধারণ ইন্টারনেট ব্রাউজিং কিংবা হালকা কাজের জন্য ২ থেকে ৪ জিবি র‌্যাম যেখানে যথেষ্ট, সেখানে এই সময়ের গেমস খেলতে নূ্যনতম প্রয়োজন হয় ৮ জিবি র‌্যাম। তবে ভালো মানের গেমস খেলতে প্রয়োজন হবে ১৬ জিবি র‌্যাম, আর এখন তো গেমিংয়ের পাশাপাশি লাইভ সম্প্রচার, কনটেন্ট তৈরিও চলে একসঙ্গে। সে ক্ষেত্রে ৩২ জিবি র‌্যামের প্রয়োজন হয়। এখন প্রাথমিক পর্যায়ের গেমস খেলতে ল্যাপটপে যেন নূ্যনতম ইন্টেল কোর আই ৫/এএমডি রাইজেন ৫ সিপিইউ, জিফোর্স জিটিএক্স ১০৬০ (এনভিডিয়া)/রেডিয়ন আরএক্স ৪৮০ (এএমডি) জিপিইউ, ৮ জিবি র‌্যাম, মনিটরের রেজ্যুলেশন ১৯২০ বাই ১০৮০ এবং উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম, এসএসডি ১২৮ জিবি, এইচডিডি ৫০০ জিবি থাকে, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া ফোরকে গেমিংয়ের গ্রাফিক কোয়ালিটি উচ্চমানের হওয়ায় বাধা ছাড়া খেলার পাশাপাশি প্রকৃত গেমিং আবহ উপভোগে আরও উচ্চ ক্ষমতার কনফিগারেশনের প্রয়োজন হয়। সাধারণ পেশাজীবী গেমাররাই একেবারে উচ্চ ক্ষমতার ল্যাপটপ ব্যবহার করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে ইন্টেল কোর আই ৭/৯ অথবা এএমডি রাইজেন ৭/৯ প্রসেসর, এনভিডিয়া জিফোর্স আরটিএক্স ৩০৬০/৩০৮০/৩০৯০ জিপিইউ, ১৬/৩২ জিবি র‌্যাম, ২কে/৪কে ফুল এইচডি রেজ্যুলেশনের ডিসপ্লে, ২৫৬ জিবি এসডিডি, এক টেরাবাইট এইচডিডিসম্পন্ন ল্যাপটপ হলে ভালো অভিজ্ঞতা মেলে।

শীর্ষ ল্যাপটপ
আগেই বলা হয়েছে, দেশের বাজারে ল্যাপটপের দাম আগের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। কাজেই গেমিং ল্যাপটপ মানেই নূ্যনতম লাখ টাকা বাজেট রাখতে হবে। সম্প্রতি পিসি ম্যাগ এই সময়ের শীর্ষ ১০ গেমিং ল্যাপটপের তালিকা করেছে। বাজারে ১ লাখ ২৬ হাজার থেকে থেকে ৪ লাখ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে বছরের শীর্ষ গেমিং ল্যাপটপ। এ ক্ষেত্রে এসারের রয়েছে ট্রাইটন ও হেলিওস সিরিজের বেশ কয়েকটি মডেলের গেমিং ল্যাপটপ। দেড় লাখ টাকা থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার মধ্যে মিলবে এসব ল্যাপটপ। এসারের নিট্রো সিরিজের ২০২২ মডেলটি নেওয়া যাবে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকায়। বাজেট এবং কনফিগারের সমন্বয়ে এখান থেকে বেছে নিতে পারেন আপনার প্রয়োজনীয় ল্যাপটপটি। এমএসআই কাটানা জিএফ ৬৬ মডেলটি নিতে পারেন ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায়। লেনোভোর লিজিয়ন সিরিজের ৫ প্রো মডেলটি কিনতে পারবেন ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকায়। লেনোভোর লিজিয়ন সিরিজের ৭ জেন ৭ (২০২২) ল্যাপটপটি নিতে হলে গুনতে হবে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রেজর ব্লেড ১৫ অ্যাডভান্সড মডেল (২০২২) যদি পছন্দ করেন তবে বাজেট রাখতে হবে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। গেমিংয়ে আরেকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড আসুস। আসুসের রগ জেফ্রাস জি১৪ ২০২২ মডেলটি কেনা যাবে ১ লাখ ৭৯ হাজার টাকায়। ডেল এলিয়েনওয়্যার এক্স১৪ মডেলটি নিতে পারে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। চাইলে নিতে পারেন গিগাবাইট অ্যারো ১৬। দাম পড়বে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। এ তালিকার বাইরেও রয়েছে আরও অনেক মডেলের গেমিং ল্যাপটপ। প্রয়োজন এবং বাজেট বুঝে নিতে পারেন পছন্দের গেমিং ল্যাপটপটি।