বাইকার, রাইডার ও মোটরসাইক্লিস্টের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? জেনেনিন এক নজরে

রাস্তাঘাটে বাইক নিয়ে দাপিয়ে বেড়ানো মানুষদের আমরা সচরাচর ‘বাইকার’ বা ‘রাইডার’ বলে ডাকি। আপাতদৃষ্টিতে শব্দগুলো সমার্থক মনে হলেও, এদের ব্যবহারের পেছনে লুকিয়ে আছে ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি এবং কখনো কখনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। আপনি নিজেকে কোন নামে পরিচয় দেবেন, তা কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্বের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
বাইকার, রাইডার না মোটরসাইক্লিস্ট?
প্রযুক্তি সাইট ‘স্ল্যাশগিয়ার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চালকদের ঠিক কী নামে ডাকা হবে তা নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর:
-
রাইডার (Rider): এটি একটি অত্যন্ত নিরপেক্ষ শব্দ। সাধারণত যিনি বাইক চালান, তাকেই রাইডার বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেইফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ চালকদের বোঝাতে এই শব্দটিই ব্যবহার করে।
-
মোটরসাইক্লিস্ট (Motorcyclist): এটি একটি কেতাবি এবং সম্মানজনক শব্দ। ‘আমেরিকান মোটরসাইক্লিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’ এই শব্দটি ব্যবহার করে বাইক চালকদের সম্পর্কে সমাজের নেতিবাচক ধারণা বা ‘স্টেরিওটাইপ’ ভাঙার চেষ্টা করে।
-
বাইকার (Biker): এই শব্দটি নিয়েই যত বিতর্ক। অনেকের কাছে এটি শখের বহিঃপ্রকাশ হলেও, পশ্চিমা বিশ্বে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক নেতিবাচক ইতিহাস।
কেন ‘বাইকার’ শব্দটি বিতর্কিত?
২০১৩ সাল পর্যন্ত অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে ‘বাইকার’-এর সংজ্ঞায় লেখা ছিল— “একজন মোটরসাইকেল চালক, বিশেষ করে যিনি কোনো গ্যাং বা দলের সদস্য; যেমন নোংরা ডেনিম পরা দীর্ঘ চুলের একজন ব্যক্তি।” তীব্র প্রতিবাদের মুখে পরে এই সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়।
ইতিহাসের পাতা থেকে: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফেরত আসা মার্কিন সৈন্যরা ছোট ছোট বাইক ক্লাব তৈরি করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে কিছু ক্লাব বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ায় ‘আউটল বাইকার’ (Outlaw Biker) শব্দটির জন্ম হয়। হলিউড সিনেমা ও সংবাদমাধ্যমের অতি-রঞ্জিত প্রচার এই শব্দটিকে অপরাধীদের সমার্থক করে তোলে।
৯৯ শতাংশ বনাম ১ শতাংশের লড়াই
১৯৪৭ সালের একটি বিতর্কিত মোটরসাইকেল ইভেন্টের পর ধারণা তৈরি হয় যে, ৯৯ শতাংশ বাইকারই আইন মেনে চলেন, আর মাত্র ১ শতাংশ অপরাধী। সেই থেকে তথাকথিত ‘আউটল’ গ্রুপগুলো নিজেদের ‘ওয়ান পার্সেন্টার্স’ বলে পরিচয় দিতে শুরু করে। যদিও বাস্তবে সাধারণ বাইক চালকদের সঙ্গে এই অপরাধী গোষ্ঠীর কোনো মিল নেই, তবুও ‘বাইকার’ তকমাটি আজও সেই ছায়া বয়ে বেড়াচ্ছে।
পরিশেষে, আপনি নিজেকে কী নামে ডাকবেন তা সম্পূর্ণ আপনার ওপর নির্ভর করে। তবে মনে রাখবেন, শব্দটির প্রকৃত অর্থ নির্ভর করে আপনি কোন উদ্দেশ্যে এবং কোন সংস্কৃতির ভিত্তিতে তা ব্যবহার করছেন তার ওপর।