বাইকের মাইলেজ বাড়ানোর ১০ কৌশল জেনে রাখুন, জেনেনিন কার্যকর টিপস

বর্তমান সময়ে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দামের কারণে বাইকের মাইলেজ বা ফুয়েল ইফিসিয়েন্সি (Fuel Efficiency) নিয়ে উদ্বেগ থাকা খুবই স্বাভাবিক। একজন পেশাদার রাইডারের মতো বাইকের মাইলেজ বাড়ানোর ১০টি কার্যকরী টিপস এখানে তুলে ধরা হলো, যা অনুসরণ করলে আপনি সহজেই প্রতি লিটারে ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ বাড়াতে পারবেন। মনে রাখবেন, মাইলেজ কেবল ইঞ্জিনের উপর নয়, আপনার চালানোর অভ্যাস এবং রক্ষণাবেক্ষণের উপরও নির্ভরশীল।

কৌশল কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
১. ধীরে ধীরে অ্যাক্সিলারেশন দিন হুট করে থ্রটল ঘোরালে ইঞ্জিনে অতিরিক্ত জ্বালানি পুড়ে যায়। মসৃণভাবে স্পিড বাড়ালে ও সময়মতো গিয়ার বদলালে ইঞ্জিনে চাপ কম পড়ে এবং মাইলেজ বাড়ে।
২. নির্দিষ্ট স্পিডে চালান (৪০-৬০ কিমি/ঘণ্টা) বেশিরভাগ বাইক ৪০ থেকে ৬০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে অপটিমাম মাইলেজ দেয়। অতিরিক্ত গতিতে এয়ার রেসিস্ট্যান্স বাড়ে এবং ইঞ্জিনকে বেশি কাজ করতে হয়, ফলে তেল খরচ বেড়ে যায়।
৩. সময়মতো ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করুন পুরোনো বা নোংরা ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিনের ঘর্ষণ বাড়ায়। সাধারণত প্রতি ২,০০০-২,৫০০ কিমি অন্তর ভালো ব্র্যান্ডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করলে ঘর্ষণ কমে, ফলে ফুয়েল বার্নিং প্রক্রিয়া উন্নত হয়।
৪. সঠিক টায়ার প্রেশার বজায় রাখুন টায়ারে বাতাস কম থাকলে রাস্তায় ঘর্ষণ (Rolls Resistance) বাড়ে, যা কাটিয়ে ওঠার জন্য ইঞ্জিনকে বাড়তি শক্তি দিতে হয়। প্রতি সপ্তাহে একবার প্রেশার চেক করে ম্যানুয়াল অনুযায়ী PSI বজায় রাখুন।
৫. অতিরিক্ত ওজন বহন করবেন না বাইকে বাড়তি ওজন মানে ইঞ্জিনের উপর বাড়তি চাপ, যা সরাসরি মাইলেজ কমিয়ে দেয়। অপ্রয়োজনীয় ভারী লাগেজ বা বাড়তি যাত্রী এড়িয়ে চলুন।
৬. ক্লাচে অপ্রয়োজনীয় চাপ দেবেন না রাইডিংয়ের সময় অনেকে অভ্যাসগতভাবে অর্ধেক ক্লাচ চেপে রাখেন (Half-Clutch Riding), যা ক্লাচ প্লেটে অতিরিক্ত লোড সৃষ্টি করে এবং দ্রুত ক্লাচ প্লেট নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাইলেজ কমায়। প্রয়োজন ছাড়া ক্লাচ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
৭. নিয়মিত সার্ভিসিং করুন এয়ার ফিল্টার, স্পার্ক প্লাগ, কার্বুরেটর ও চেইন-স্প্রকেট সময়মতো পরীক্ষা ও পরিষ্কার রাখুন। এয়ার ফিল্টার বন্ধ থাকলে অক্সিজেন কম পাওয়ায় ফুয়েল ঠিকভাবে বার্ন হয় না।
৮. স্টপেজে ইঞ্জিন বন্ধ রাখুন সিগন্যাল বা লম্বা ট্রাফিকে ৩০ সেকেন্ডের বেশি অপেক্ষা করতে হলে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিন। এই সহজ অভ্যাসটি মাসে ৫-১০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারে।
৯. মানসম্মত জ্বালানি ব্যবহার করুন অপরিষ্কার বা নিম্নমানের পেট্রোল ইঞ্জিনে কার্বন জমায় এবং কম্বাশন প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। সবসময় বিশ্বস্ত ও পরিচিত পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নিন এবং নিয়মিত ফুয়েল ফিল্টার পরিষ্কার করুন।
১০. মসৃণ রাইডিং অভ্যাস করুন বারবার ব্রেক করা, দ্রুত অ্যাক্সিলারেশন দেওয়া বা হঠাৎ গিয়ার পরিবর্তন করা — এই ধরনের আক্রমণাত্মক ড্রাইভিং মাইলেজের প্রধান শত্রু। শান্তভাবে এবং পরিকল্পিতভাবে বাইক চালালে ফুয়েল খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।