CAR: টাটা হ্যারিয়ার ইভিতে যেসব সুবিধা পাবেন, জেনেনিন কী কী রয়েছে ফিচার?

টাটা হ্যারিয়ার ইভি বাজারে: ডিজাইন, ফিচার ও দামের বিস্তারিত বিবরণ!
নয়াদিল্লি, ২৫ জুলাই, ২০২৫: ভারতীয় গাড়ির বাজারে অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড টাটা মোটরস এবার তাদের ইভি পোর্টফোলিওতে নতুন সংযোজন হিসেবে নিয়ে এসেছে টাটা হ্যারিয়ার ইভি। টাটার অন্যান্য ইলেকট্রিক গাড়ির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন এসইউভিটি ডিজাইন করা হয়েছে, যেখানে রয়েছে বেশ কিছু নতুন ফিচার এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, টাটা হ্যারিয়ার ইভির ডিজাইন, ফিচার, সুবিধা ও দাম সম্পর্কে বিস্তারিত।
নকশা ও বাহ্যিক রূপ:
হ্যারিয়ার ইভির ডিজাইন তার আইসিই (ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিন) ভ্যারিয়েন্টের মতোই রাখা হয়েছে, তবে এতে কিছু ইভি-নির্দিষ্ট পরিবর্তন আনা হয়েছে। সামনের দিকে একটি নতুন ক্লোজড গ্রিল রয়েছে, যা এটিকে একটি আধুনিক ইভি লুক দিয়েছে। বিভিন্ন অ্যালয় হুইল (টপ-এন্ড ভার্সনে ১৯ ইঞ্চি) এবং কিছু ইভি স্পেসিফিক টাচ এটিকে আলাদা করে তুলেছে। বিশেষ করে ‘স্টিলথ’ সংস্করণটি সম্পূর্ণ কালো রঙের কারণে আরও আক্রমণাত্মক দেখাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, হ্যারিয়ার ইভি দেখতে আগের মতো হলেও এর ভালো পেইন্ট ফিনিশিং এবং মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি রয়েছে।
অভ্যন্তরীণ নকশা ও ফিচার:
গাড়ির ইন্টেরিয়রে সাধারণ রঙের স্পেসিফিকেশন আইসিই হ্যারিয়ারের মতো নয়। এর পরিবর্তে টাটা ইভির মতো হালকা শেড ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে কালো/নীল এবং গ্রে রঙের সংমিশ্রণ দেখা যায়। ড্যাশবোর্ডেও একটি আলাদা প্যাটার্ন রয়েছে এবং আইসিই হ্যারিয়ার থেকে ফিট ও ফিনিশ উন্নত করা হয়েছে।
ডিজাইন একই রকম হলেও, এতে একটি বিশাল ১৪.৫৩-ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম রয়েছে, যা বিশ্বের প্রথম স্যামসাং নিও কিউএলইডি ডিসপ্লে দ্বারা চালিত। এটি উন্নত মানের ছবি প্রদর্শন করবে। সেন্টার কনসোলটিতে একটি বড় গোলাকার মোড সিলেক্টর এবং একটি গিয়ার সিলেক্টরও রয়েছে। ডুয়াল-টোন ড্যাশবোর্ডের উপরে এই ইনফোটেনমেন্ট স্ক্রিনটি গাড়ির ভেতরের চেহারাকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। স্ক্রিনের ডান দিকে একটি ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে এবং ঠিক সামনে একটি ফোর-স্পোক স্টিয়ারিং হুইল থাকবে, যার ওপর একটি আলোকিত টাটা লোগো রয়েছে।
সুবিধা ও কার্যকারিতা:
হ্যারিয়ার ইভির বুট স্পেস ৫০২ লিটার, যা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট। এছাড়াও, একটি ‘ফ্রাঙ্ক’ (সামনের বুট) রয়েছে যার সঙ্গে ৬৭ লিটার অতিরিক্ত স্টোরেজ পাওয়া যাবে। গাড়িতে ফিজিক্যাল বোতামের উপস্থিতি চালকদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করবে। আসনগুলো অত্যন্ত আরামদায়ক এবং পেছনের সিটে চমৎকার হেডরুম ও লেগরুম রয়েছে। সাফারি থেকে একটি ‘পাওয়ার্ড বস মোড’ও (Powered Boss Mode) এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হ্যারিয়ার ইভিতে একটি সমতল মেঝে রয়েছে, যার অর্থ পিছনে তিনজন বসতে পারবে, তবে মাঝখানে কোনো হেডরেস্ট নেই।
নিরাপত্তার জন্য, হ্যারিয়ার ইভিতে একটি ৫৪০-ডিগ্রি সারাউন্ড ক্যামেরা ভিউও রয়েছে, যা কোনো চাকা যদি কার্বের খুব কাছাকাছি চলে আসে, তাহলে চালককে সতর্ক করে দিতে পারবে।
অন্যান্য বৈশিষ্ট্য:
হ্যারিয়ার ইভির অন্যান্য অত্যাধুনিক বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে: একটি প্যানোরামিক সানরুফ, অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং, ভেন্টিলেটেড এবং পাওয়ার্ড ফ্রন্ট সিট, ডলবি অ্যাটমস ৫.১-সহ ১০ স্পিকার সাউন্ড সিস্টেম, ভেহিকেল-টু-লোড (V2L) এবং ভেহিকেল-টু-ভেহিকেল (V2V) ফাংশনালিটি, ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেমের জন্য ওভার-দ্য-এয়ার (OTA) আপডেট, কানেক্টেড কার টেকনোলজি, চারটি ড্রাইভ মোড, অল-ডিজিটাল ইনসাইড রিয়ারভিউ মিরর, অটো পার্ক অ্যাসিস্ট, সিক্স টেরেন মোড এবং আরও নানা কিছু।
ব্যাটারি ও চার্জিং:
গাড়িটির আরডব্লিউডি (Rear-Wheel Drive) ৭৫ কিলোওয়াটআওয়ার ভ্যারিয়েন্টটি একবার চার্জ দিলেই ৬২৭ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে, একটি ৭.২ কিলোওয়াট এসি চার্জার হ্যারিয়ার ইভিকে ১০.৭ ঘণ্টার মধ্যে ১০-১০০ শতাংশ রিচার্জ করতে পারে। অন্যদিকে, একটি ১২০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জার এসইউভির ব্যাটারি ২৫ মিনিটের মধ্যে ২০-৮০ শতাংশ চার্জ করে দেবে, যা দীর্ঘ যাত্রায় দ্রুত চার্জিং নিশ্চিত করবে।
রঙ ও দাম:
টাটা হ্যারিয়ার ইভি ‘এম্পাওয়ার্ড অক্সাইড’, ‘নৈনিতাল নক্টার্ন’, ‘প্রিস্টিন হোয়াইট’ এবং ‘পিওর গ্রে’—এই চারটি আকর্ষণীয় রঙে বাজারে এসেছে। হ্যারিয়ার ইভির বেস রিয়ার-হুইল ড্রাইভ ৬৫ কিলোওয়াট ভ্যারিয়েন্টটির দাম শুরু হচ্ছে ২১ লাখ ৪৯ হাজার রুপি থেকে। এই নতুন ইলেকট্রিক এসইউভি ভারতীয় বাজারে টাটার ইভি আধিপত্য আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।