গরমে গাড়ির ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখতে যা করবেন, জেনেনিন কিছু সহজ উপায়

গরমের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথেই গাড়ির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় চলার সময় ইঞ্জিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে, যা গাড়ির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই সমস্যাকে অবহেলা করলে ইঞ্জিনের বড়সড় ক্ষতি এমনকি ইঞ্জিন বদলানোর মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে! তাই আগেভাগে সতর্ক থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই এই সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।

ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখার কার্যকরী উপায়গুলি:

১. কুল্যান্টের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন:
গরমকালে গাড়ির কুল্যান্ট ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার রেডিয়েটরে পর্যাপ্ত পরিমাণ কুল্যান্ট আছে কিনা, তা পরীক্ষা করুন। শুধু পানি নয়, পানি ও কুল্যান্টের সঠিক অনুপাতে মিশ্রণ (সাধারণত ৫০:৫০) ব্যবহার করা উচিত, কারণ এটি সবচেয়ে কার্যকর। মনে রাখবেন, রেডিয়েটরের ক্যাপ খোলার আগে ইঞ্জিন পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা জরুরি।

২. রেডিয়েটর ও কুলিং ফ্যানের সঠিক যত্ন নিন:
রেডিয়েটরে ময়লা বা ধুলো জমে গেলে তা সঠিকভাবে তাপ নির্গত করতে পারে না। তাই প্রতি মাসে অন্তত একবার রেডিয়েটর পরিষ্কার করা উচিত। কুলিং ফ্যান ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, সেটাও নিশ্চিত করুন। ইলেকট্রিক ফ্যান হলে একজন মেকানিকের সাহায্যে এর মোটর এবং সেন্সরগুলো ঠিক আছে কিনা, তা পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারেন।

৩. ইঞ্জিন অয়েল সময় মতো পরিবর্তন করুন:
ইঞ্জিন অয়েল শুধু লুব্রিকেশন নয়, ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখতেও সাহায্য করে। গরমকালে অপেক্ষাকৃত ঘনত্বের তেল (Heavier Grade Oil) ব্যবহার করা ভালো। ইঞ্জিন অয়েল পুরোনো হয়ে গেলে তা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ততটা কার্যকর থাকে না। তাই নির্দিষ্ট সময় এবং দূরত্ব অনুযায়ী নিয়মিত অয়েল পরিবর্তন করা অত্যাবশ্যক।

৪. অতিরিক্ত বোঝা পরিহার করুন:
গরমের দিনে গাড়িতে অতিরিক্ত বোঝা বহন করলে ইঞ্জিনের ওপর চাপ বাড়ে এবং এটি দ্রুত গরম হয়ে যেতে পারে। অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গাড়ি থেকে নামিয়ে রাখুন। পাহাড়ি বা উঁচু এলাকায় গাড়ি চালানোর সময় সঠিক গিয়ার ব্যবহার করুন, যাতে ইঞ্জিনের উপর কম চাপ পড়ে।

৫. ‘স্টপ-গো’ ট্রাফিক এড়িয়ে চলুন:
বারবার থেমে থেমে গাড়ি চালালে ইঞ্জিন বেশি গরম হয়। কারণ এই সময়ে বাতাসের প্রবাহ কম থাকে। সম্ভব হলে ট্রাফিক কম এমন সময়ে রাস্তায় বের হওয়ার চেষ্টা করুন। দীর্ঘক্ষণ ট্রাফিকে আটকে থাকলে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে রাখুন।

৬. এয়ার কন্ডিশন ব্যবহারে সতর্কতা:
গরমকালে অনেকেই গাড়ির এসি অবিরাম চালান, যা ইঞ্জিনের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে। এসি ব্যবহারের সময় টেম্পারেচার মাঝামাঝি রেখে ব্যবহার করুন। রাস্তা ফাঁকা থাকলে অথবা স্বল্প গতিতে চলার সময় গাড়ির জানালা খুলে ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে ভেতরের গরম বাতাস বের হতে দিন।

ইঞ্জিন ‘ওভারহিট’ হলে কী করবেন?
যদি আপনার গাড়ির তাপমাত্রা গেজ ‘H’ (Hot) লেভেলে চলে যায় অথবা ইঞ্জিন থেকে স্টিম বেরোতে দেখা যায়, তাহলে তাৎক্ষণিক নিচের পদক্ষেপগুলি নিন:

অবিলম্বে গাড়ি থামিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করুন।

সাবধানে গাড়ির বোনেট (হুড) খুলে দিন, যাতে ভেতরের গরম বাতাস বেরিয়ে যেতে পারে।

ইঞ্জিন পুরোপুরি ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত রেডিয়েটরের ক্যাপ খোলার চেষ্টা করবেন না।

যদি সম্ভব হয় এবং নিরাপদ মনে হয়, ইঞ্জিন ঠান্ডা হওয়ার পর পানি বা কুল্যান্ট দিয়ে রেডিয়েটর রিফিল করুন।

নিয়মিত গাড়ির সার্ভিসিং করান:
গরমের মৌসুমে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি ঘন ঘন গাড়ির সার্ভিসিং করানো উচিত। এতে গাড়ির কুলিং সিস্টেম, ইঞ্জিন অয়েল, ফ্যান বেল্ট, থার্মোস্ট্যাট – সবকিছু ভালোভাবে যাচাই করা যায় এবং কোনো সম্ভাব্য সমস্যা থাকলে তা সময় মতো সারিয়ে নেওয়া যায়। নিয়মিত যত্নে আপনার গাড়ি যেমন সুরক্ষিত থাকবে, তেমনই গরমে নিশ্চিন্তে পথচলাও সম্ভব হবে।