প্রতিদিন বাইক চালানোর আগে কী কী চেক করবেন? জেনেনিন গুরূত্বপূর্ন কিছু কথা

প্রতিদিন বাইক চালানোর আগে কিছু ছোট অথচ জরুরি বিষয় নিয়মিত পরীক্ষা করলে তা কেবল দুর্ঘটনার ঝুঁকিই কমায় না, আপনার প্রিয় বাইকের আয়ুও বাড়িয়ে তোলে। সেই সঙ্গে রাস্তায় অপ্রত্যাশিত সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনাও কমে যায়, এবং আপনার নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এই সহজ অভ্যাসটি গড়ে তুলতে প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট সময় দিলেই যথেষ্ট।

জেনে নিন, প্রতিদিন বাইক চালানোর আগে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আপনাকে অবশ্যই পরীক্ষা করে নিতে হবে:

১. ইঞ্জিন অয়েল: বাইকের প্রাণশক্তি ইঞ্জিন অয়েল পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে কি না, এবং তা পরিষ্কার রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। তেলের পরিমাণ কম থাকলে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

২. টায়ারের চাপ ও অবস্থা: সুরক্ষার প্রধান স্তম্ভ সামনে ও পিছনের টায়ারে সঠিক পরিমাণে বাতাস আছে কি না, তা অবশ্যই পরীক্ষা করুন। টায়ারে কোনো ফাটল, কাটা দাগ বা অতিরিক্ত ক্ষয় থাকলে অবিলম্বে তা পরিবর্তন করা উচিত। টায়ারের সঠিক চাপ স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ ব্রেকিং নিশ্চিত করে।

৩. ব্রেক সিস্টেম: নির্ভুল নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি সামনে ও পিছনের ব্রেক ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা যাচাই করুন। হাইড্রোলিক ব্রেক হলে ব্রেক অয়েল পর্যাপ্ত আছে কি না, তাও দেখে নিন। ব্রেক কাজ না করলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

৪. চেইন ও স্প্রকেট: স্মুথ রাইডের জন্য চেইনে পর্যাপ্ত গ্রিজ আছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। চেইন যেন অতিরিক্ত টাইট বা খুব বেশি ঢিলে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। সঠিক চেইন অ্যাডজাস্টমেন্ট স্মুথ রাইডিং নিশ্চিত করে।

৫. লাইট, হর্ন ও সিগন্যাল: দৃশ্যমানতা ও সতর্কতার জন্য হেডলাইট, টেইল লাইট, ইন্ডিকেটর (সংকেত বাতি) এবং হর্ন ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। রাতে বা বৃষ্টির দিনে এগুলো কাজ না করলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

৬. ফুয়েল: পথের সঙ্গী ট্যাংকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রোল বা অকটেন আছে কি না, তা দেখে নিন। প্রয়োজনে রিজার্ভ ট্যাঙ্কেও নজর দিন, যাতে মাঝপথে জ্বালানির অভাবে আটকে না পড়েন।

৭. ক্লাচ ও গিয়ার সিস্টেম: মসৃণ গতির জন্য ক্লাচ লিভার ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। গিয়ার পরিবর্তনে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, তাও নিশ্চিত করুন। মসৃণ গিয়ার পরিবর্তন আপনার রাইডিং অভিজ্ঞতাকে আনন্দদায়ক করে তোলে।

৮. সাইড স্ট্যান্ড ও মেইন স্ট্যান্ড: অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাইক চালানোর আগে অবশ্যই নিশ্চিত হন যে সাইড স্ট্যান্ড বা মেইন স্ট্যান্ড পুরোপুরি উঠানো হয়েছে এবং তা ঝুলে নেই। অনেক সময় স্ট্যান্ড উঠানো না থাকলে বাইক বাঁক নেওয়ার সময় পড়ে যেতে পারে।

৯. ব্যাটারির অবস্থা: বিদ্যুতের উৎস ইলেকট্রিক সিস্টেম (যেমন হেডলাইট, হর্ন) দেখে ব্যাটারির চার্জ ঠিক আছে কি না, তা বুঝতে পারবেন। ব্যাটারি লুজ হলে বাইক স্টার্ট নিতে সমস্যা হতে পারে।

১০. মিরর ও কাগজপত্র: আইনসম্মত ও নিরাপদ রাইডের জন্য উভয় পাশের রিয়ার ভিউ মিরর ঠিকভাবে সেট আছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন কপি, ইন্স্যুরেন্স এবং ফিটনেস সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র আপনার সঙ্গে আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।

কিছু অতিরিক্ত টিপস:

  • বৃষ্টির দিনে: চালানোর আগে ব্রেক ও টায়ারের গ্রিপ আরও বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করুন। ভেজা রাস্তায় এগুলোর কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • সঠিক পোশাক: মাঝে মাঝে হেলমেট এবং বৃষ্টির দিনে রেইনকোটও ঠিকমতো আছে কি না দেখুন।
  • পথ পরিকল্পনা: নতুন কোনো সড়কে গেলে গুগল ম্যাপ বা রাস্তার অবস্থা সম্পর্কে আগেই জেনে নিন, যাতে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে না পড়েন।

এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো আপনার বাইক রাইডিংকে আরও নিরাপদ, মসৃণ এবং আনন্দদায়ক করে তুলবে। আপনার জীবন আপনার হাতে, তাই সতর্ক থাকুন, নিরাপদে বাইক চালান।