“টেসলা ভারতে গাড়ি উৎপাদনে আগ্রহী নয়'”- জানাল ভারত সরকার, শোরুম খোলার পরিকল্পনা!

এলন মাস্কের টেসলা ভারতের বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) উৎপাদন নীতিমালার অধীনে দেশে গাড়ি তৈরিতে আগ্রহী নয়। এমনটাই জানিয়েছেন ভারতের শিল্পমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী। সোমবার ভারত সরকার নতুন ইভি নীতি স্কিম এবং তার নির্দেশিকা জারির পরই এই মন্তব্য করেন তিনি।
গত মার্চে বৈশ্বিক বিভিন্ন ইভি নির্মাতার জন্য নানা প্রণোদনা ঘোষণার পরেও এই প্রথম ভারত সরকার প্রকাশ্যে স্বীকার করলো যে তারা ইলন মাস্কের কাছ থেকে ভারতে উৎপাদনের জন্য বিনিয়োগ আনতে পারেনি। তবে, কুমারস্বামী নিশ্চিত করেছেন যে, টেসলা ভারতে দুটি শোরুম খুলবে, যেখানে মানুষ গাড়ি দেখে কিনতে পারবে। বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেসলা ভারতে গাড়ি তৈরি না করলেও সেদেশে তাদের গাড়ি বিক্রির জন্য উপলব্ধ থাকবে।
কুমারস্বামী বলেছেন, “মার্সিডিজ বেঞ্জ, স্কোডা-ফোক্সওয়াগেন, হুন্দাই ও কিয়া ভারতে ইভি তৈরিতে আগ্রহ দেখালেও টেসলার কাছ থেকে আমরা তেমন কিছু আশা করছি না।” ভারতের আরেক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা ‘প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া’কে (PTI) জানিয়েছেন, টেসলার একজন প্রতিনিধি প্রথম ধাপের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে তাঁরা অনুপস্থিত ছিলেন।
ট্রাম্পের মন্তব্য ও টেসলার ভারতের বাজারে প্রবেশের দীর্ঘ ইতিহাস
এই খবর এমন সময় এল যখন গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, টেসলা যদি ভারতে কারখানা তৈরি করে, তাহলে সেটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অন্যায়’ হবে।
বছরের পর বছর ধরে ভারতের বাজারে প্রবেশের জন্য একাধিকবার আলোচনা করেছে টেসলা। টেসলার মূল পরিকল্পনা ছিল ভারতে কারখানা খোলার। তবে ২০২২ সালে সেই পরিকল্পনা স্থগিত হয়ে যায়, কারণ ভারত সরকার তখন জানিয়েছিল, টেসলাকে কারখানা খুলতে হলে গাড়ি ভারতেই তৈরি করতে হবে। অন্যদিকে, টেসলা বলেছিল, তারা আগে ভারতে গাড়ি রপ্তানি করে দেখতে চায়, সেখানে কোম্পানির ইভির চাহিদা কতটা আছে।
২০২৩ সালে মাস্ক বলেছিলেন, ভারতের বাজারে বিনিয়োগের জন্য “সঠিক সময় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন” তিনি। এ বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও দেখা করেছিলেন মাস্ক, যেখানে দুজনেই প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবনের “অসাধারণ সম্ভাবনা” নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
নতুন ইভি নীতি ও বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি
গত বছর বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাতা বিভিন্ন কোম্পানির জন্য ইভির আমদানি শুল্ক কমিয়েছিল ভারত। তবে সেই সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে হবে এবং তিন বছরের মধ্যে ভারতেই গাড়ি তৈরি শুরু করতে হবে। এর আগে মাস্ক বলেছিলেন, ভারতে গাড়ি আনার ওপর কর বেশি থাকায় তাদের জন্য ভারতে ব্যবসা করা কঠিন। সরকার কর কমিয়ে সাহায্য করেছে যাতে ভারতের বাজারে আসতে উৎসাহিত হয় তারা।
বর্তমানে ভারতের ইভি বাজারে শীর্ষে আছে ‘টাটা মোটরস’, যাদের বাজারের প্রায় ৩৫-৬০ শতাংশ দখল রয়েছে। অন্যদিকে, বাজারে ২২-৩০ শতাংশ শেয়ার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ‘এমজি মোটরস’।
টেসলার এই সিদ্ধান্ত ভারতের ইভি উৎপাদন খাতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।