CAR: সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার আগে ৫ বিষয়ে খেয়াল রাখুন, তাহলে আর ঠকবেন না সহজে

গাড়ি কেনার ইচ্ছা কমবেশি সবারই থাকে। নতুন গাড়ির দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় অনেকেই সাধ্যের মধ্যে সেকেন্ড হ্যান্ড কিংবা পুরোনো গাড়ির দিকে ঝোঁকেন। কিন্তু কম বাজেটের কারণে অনেক সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন ক্রেতারা। ফলে সেই গাড়ি কেনার পরে অনেককেই নানান সমস্যায় ভুগতে হয় এবং গাড়ি চালাতে গিয়ে ভুক্তভোগী হন। তাই পুরোনো গাড়ি কেনার আগে আগে থেকেই কয়েকটি বিষয়ে সাবধান হওয়া এবং ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
পুরোনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার আগে অবশ্যই যে বিষয়গুলো ভালোভাবে খেয়াল রাখবেন, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. গাড়ির ফিটনেস: গাড়িটির ফিটনেস ঠিক আছে কি না, তা ভালোভাবে পরখ করা দরকার। যে গাড়িটি কিনবেন, তার ফিটনেস সার্টিফিকেট ভালোভাবে দেখে নিন। গাড়ি সমতলে রেখে চারদিক থেকে ভালোভাবে দেখুন। মাটি থেকে গাড়ির চারপাশের আয়তন ঠিক আছে কি না, সেটাও ভালোভাবে খেয়াল করে দেখুন, যাতে বোঝা যায় গাড়িটি কোনও দিকে হেলে আছে কিনা বা কাঠামোয় কোনও সমস্যা আছে কিনা।
২. নতুন রঙের প্রলেপ বা দুর্ঘটনা: অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটার পর সেই দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটিকে সস্তায় মেরামত করা হয়। তারপর তার উপর নতুন রঙের প্রলেপ লাগিয়ে নতুন রূপে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাই সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার আগে সেটির উপর নতুন রঙের প্রলেপ চাপানো হয়েছে কি না, অথবা গাড়ির কোনও অংশে জোড়া বা মেরামতের চিহ্ন আছে কিনা, সেটা ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। গাড়ির দরজার ভেতরের অংশে বা বনেট খুলে ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।
৩. গাড়ির ডকুমেন্টেশন: পুরোনো গাড়ি কেনার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সমস্ত কাগজপত্র ভালোভাবে যাচাই করা। গাড়ির বীমার কাগজ দেখে নিন। রেজিস্ট্রেশনের বছর, উৎপাদনের বছর যাচাই করার জন্য রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (RC) ভালোভাবে পরীক্ষা করুন এবং বিক্রেতার বিজ্ঞাপনের তথ্যের সঙ্গে তা মিলছে কি না দেখে নেবেন। গাড়ির চেসিস নম্বর গাড়ির বডি থেকে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের সঙ্গে মিলছে কি না, তা অবশ্যই যাচাই করতে ভুলবেন না। এছাড়াও গাড়ির ট্যাক্স টোকেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ সার্টিফিকেট (PUC) সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক আছে কিনা তা দেখে নিন।
৪. ছোট শব্দ, কম্পন ও ধোঁয়া: গাড়ি চালানোর সময় বা স্টার্ট দেওয়ার পর প্রতিটি ছোট শব্দ এবং কম্পন, নিষ্কাশিত ধোঁয়ার রং (যেমন কালো বা নীল ধোঁয়া ইঞ্জিনের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়), গাড়ির প্রতিটি ‘ক্রিক’ আপনাকে গাড়ির অবস্থা সম্পর্কে অনেক কিছু বলতে পারে। ব্যবহৃত গাড়ি কেনার আগে তাই একবার ভালো করে চালিয়ে এবং পরীক্ষা করে যাচাই করে নিতে হবে। এই যাচাই পদ্ধতির মাধ্যমে আপনি গাড়ির সম্ভাব্য ত্রুটিগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন। পরে সেই অনুযায়ী আপনি গাড়িটির জন্য কতটা ব্যয় করতে হবে তার মূল্যায়ন করতে পারবেন এবং দর কষাকষি করতে সুবিধা হবে।
৫. বিশেষজ্ঞ মেকানিকের পরীক্ষা: পুরোনো গাড়ি কেনার আগে একজন বিশ্বস্ত ও বিশেষজ্ঞ মেকানিককে দিয়ে গাড়িটির ইঞ্জিন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভালোভাবে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মেকানিক ইঞ্জিনের অবস্থা, ব্রেক, সাসপেনশন, গিয়ারবক্স সহ গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ মেকানিক্যাল দিকগুলো পরীক্ষা করে ত্রুটিগুলি ধরিয়ে দিতে পারবেন। এতে গাড়ির ভেতরের ত্রুটিগুলি ধরা পড়বে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বড় ও অপ্রত্যাশিত খরচের ভার থেকে আপনি মুক্তি পেতে পারেন।
পুরোনো গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করে নিলে আপনি অনেক সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন এবং আপনার কেনা গাড়িটি আপনার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে ও দীর্ঘদিন ভালো সার্ভিস দেবে।