E-CAR: ৩ মাসে বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বেড়েছে ২৯ শতাংশ, ক্রেতাদের বাড়ছে আগ্রহ

পেট্রোল-ডিজেল বা গ্যাসচালিত যানবাহনের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। যার প্রমাণ মিলেছে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসের বিক্রির পরিসংখ্যানে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির বৈশ্বিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা রো মোশন একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের তুলনায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে বিশ্বজুড়ে ৪১ লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে। যা গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি।

রো মোশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে সবচেয়ে বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে চীনে— ২৪ লাখ। বিক্রির এই হার গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসের তুলনায় শতকরা ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা। এই দুই অঞ্চলে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যথাক্রমে ৯ লাখ ও ৫ লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে। বাকি ৩ লাখ গাড়ি বিক্রি হয়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশে। ইউরোপে এবং উত্তর আমেরিকাভুক্ত তিন দেশ কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে বছরের প্রথম তিন মাসে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বেড়েছে যথাক্রমে ২৭ শতাংশ ও ১৬ শতাংশ।

গত ফেব্রুয়ারিতে চীনের সব ধরনের রপ্তানি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। ফলে দেশটিতে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম বেড়ে যায়।

তবে রো মোশন জানিয়েছে, দাম খানিকটা বাড়লেও তা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেমন প্রভাব ফেলেনি। বিবৃতিতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র তার চাহিদার ৬০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন করে। বাকি ৪০ শতাংশ গাড়ির অধিকাংশই আমদানি করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকো থেকে। চীন থেকে আমদানির পরিমাণ যেহেতু বেশ কম, তাই চীনা গাড়ির দাম বাড়লেও তা বাজারে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি।”

বৈদ্যুতিক গাড়ির পাশাপাশি গাড়ির ব্যাটারির বিক্রিও বেড়েছে বিভিন্ন দেশে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত জার্মানিতে ৩৭ শতাংশ, ইতালিতে ৬৪ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ৪২ শতাংশ বেড়েছে ব্যাটারি বিক্রি।