“বিশ্বজুড়ে বেড়ে চলেছে বিক্রি”-মার্চে গাড়ি সরবরাহে রেকর্ড করল শাওমি,

চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) নির্মাণ শিল্পে নতুন করে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করছে শাওমি, এক্সপেং ও লিপমোটরের মতো কোম্পানিগুলো। মার্চ মাসে এই তিন সংস্থা প্রায় ৩০ হাজার গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন স্টার্টআপের সম্মিলিত গাড়ির সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে, যা চীনের কিছু ইভি নির্মাতার দ্রুত অগ্রগতিকেই তুলে ধরছে। তবে বাজারের শীর্ষস্থান এখনও ধরে রেখেছে চীনের আরেক ইভি জায়ান্ট বিওয়াইডি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শাওমি ঘোষণা করেছে, মার্চ মাসে তারা রেকর্ড সংখ্যক ইভি সরবরাহ করেছে, যার পরিমাণ ২৯ হাজার ইউনিট ছাড়িয়েছে। এর আগে গত পাঁচ মাসে তাদের গাড়ির সরবরাহের গড় ছিল ২০ হাজারের ঘরে। এই পরিসংখ্যান শাওমির ইভি বাজারে দ্রুত উত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে এই সাফল্যের মধ্যেই গত মঙ্গলবার একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শাওমির ফ্ল্যাগশিপ মডেল এসইউ৭-এর গাড়িতে থাকা তিনজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার পর একই দিন বিকেলে চীনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে শাওমি জানায়, দুর্ঘটনার আগে গাড়িটি অটোপাইলট মোডে চলছিল। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, নির্মাণকাজের জন্য রাস্তাটি বন্ধ ছিল এবং চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলেও নির্মাণ পরিকাঠামোর সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। শাওমি বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ শাওমি আগামী এক বছরের জন্য তাদের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যেখানে সাড়ে তিন লাখ গাড়ি সরবরাহের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে তারা। এই ঘোষণার মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটল।
মার্কিন বাণিজ্য বিষয়ক পত্রিকা ব্লুমবার্গ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইভির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বেইজিংয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইভি কারখানা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে শাওমি। যদিও এই বিষয়ে সিএনবিসির পক্ষ থেকে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও শাওমি কোনো সাড়া দেয়নি।
এর আগে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শাওমি প্রথমবারের মতো তাদের তৈরি ইভির ঝলক দেখিয়েছিল। সেই সময় এই চীনা স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানিটি বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অটোমেকার কোম্পানির মধ্যে নিজেদের স্থান করে নেওয়ার লক্ষ্যও ঘোষণা করেছিল। মার্চ মাসের শক্তিশালী সরবরাহ সেই লক্ষ্যের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়েছে বলেই মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।