অর্কেস্ট্রার পরিচালক যখন রোবট, AI-যন্ত্র কেড়ে নিচ্ছে মানুষের কাজ?

পেছনে প্রায় ৩০ জন অর্কেস্ট্রা শিল্পী। হলভর্তি দর্শকের সামনে সুরের মূর্ছনা তোলার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে মানুষের আদলে তৈরি একটি রোবট। নাম তার ‘ইভআর ৬’। সামনে থাকা দর্শকদের অবাক করে দিয়ে শূন্যে দুই হাত নেড়ে নেড়ে সংগীত পরিচালনা করতে শুরু করে রোবটটি। পেছনে থাকা অর্কেস্ট্রা শিল্পীরাও রোবটের হাতের ইশারা অনুসরণ করে সুর তুলতে থাকেন।

অর্কেস্ট্রার নির্দেশনা দেওয়া রোবটটির দেখা মিলেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের ন্যাশনাল থিয়েটারে। দক্ষিণ কোরিয়ার তৈরি রোবটটির বিক্রি কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে।

প্রসঙ্গত,আগামী এক দশকের মধ্যে বাড়ির কাজ ও পারিবারিক পরিচর্যার মতো কার্যক্রমের প্রায় ৩৯ শতাংশই স্বয়ংক্রিয় উপায়ে হতে পারে। এমনই ধারণা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাজ্য ও জাপানের ৬৫জন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশেষজ্ঞ ১০ বছরের বিভিন্ন সাধারণ পারিবারিক কাজে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার সম্পর্কে নিজেদের অনুমান প্রকাশ করেছেন।

তাদের অনুমান বলছে, গৃহস্থালী কেনাকাটায় সবচেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় উপায়ের ব্যবহার দেখা যাবে। আর শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের পরিচর্যার মতো কার্যক্রমে এআই’র ওপর সবচেয়ে কম প্রভাব পড়বে।

এই গবেষণা প্রকাশ পেয়েছে ‘প্লস ওয়ান’ জার্নালে।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও জাপানের ‘ওচানোমিজু ইউনিভার্সিটি’র গবেষকরা জানতে চেয়েছেন, এইসব রোবট বাড়ির অবৈতনিক কাজে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

“রোবট আমাদের কাজ নিয়ে নিলে তারা কী অন্তত আমাদের জন্য আবর্জনাও বহন করবে?” –জিজ্ঞেস করেন তারা।

উদাহরণ হিসেবে, গবেষকরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেন, ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মতো ‘গার্হস্থ্য কার্যক্রমে’ ব্যবহৃত রোবট ‘বিশ্বে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ও বিক্রিত রোবট’ হয়ে উঠেছে।