মর্গে জমেছে লাশের পাহাড়! গিজগিজ করছে পোকা, দুর্গন্ধে টিকতে না পেরে কাজ বন্ধ রাখল চিকিৎসকরা

একটির উপর আর একটি চেপেছে। তার উপর আর একটি, এভাবেই লাশের পাহাড় তৈরি হয়েছে। 2018 সাল থেকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের মর্গে বেশ কয়েকটি মৃতদেহ পড়ে আছে। মর্গে প্রত্যাশার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি লাশ রয়েছে। যার ফলে গিজগিজ করছে ম্যাগট।

লাশের স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর অবস্থা সেখানে কাজ করা অসম্ভব বলে ময়নাতদন্ত বন্ধ করে দেন চিকিৎসকরা। জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের মর্গে ২৮টি মৃতদেহ রাখার জায়গা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ১৩০টি লাশ রয়েছে। 2018 সাল থেকে সেখানে অনেক লাশ পড়ে আছে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা পুলিশ ও পুর প্রশাসনের কাছে বেওয়ারিশ লাশগুলো উদ্ধারের আবেদন জানায়। তবে কোনো পদক্ষেপই করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

এমন পরিবেশে কাজ করলে নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়বেন। ডোম থেকে মৃতের পরিবার সবার জন্যই ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই ময়নাতদন্ত বন্ধ করে দেন মেডিক্যাল পরীক্ষক ভাস্কর ভট্টাচার্য। তবে ময়নাতদন্ত স্থগিত করায় উদ্বিগ্ন কারও কারও পরিবার। নিহতদের একজনের আত্মীয় সুরেশ লাকরা বলেন, অনেক দিন পর আমাদের আত্মীয়ের লাশ পাওয়া গেছে। এখন ডাক্তারবাবুরা কাজ বন্ধ করে দিলেন। এখন আমরা কী করব জানি না।”

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিক্যাল পরীক্ষক বিভাগের ডা. ভাস্কর ভট্টাচার্য ফোনে বলেন, “২০১৮ সাল থেকে মৃতদেহ মর্গে পরে থাকলেও ডিসপোজাল হয়নি। কর্তৃপক্ষকে বারবার জানালেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। দুর্গন্ধ এবং মৃতদেহের শরীরে জন্ম নেওয়া ম্যাগট পোকায় মর্গ ছেয়ে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা ময়নাতদন্তে বাধা দিতে বাধ্য হয়েছি। মর্গ সাফাই হলেই ফের কাজ শুরু করা যাবে।”

প্রশাসন কি এটা নিয়ে ভাবছে? জলপাইগুড়ি জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলেছেন যে তিনি ঘটনাটি পুলিশ এবং শহরের আধিকারিকদের জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *