ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনি কিশোর, আহত হয়েছেন এক নিরাপত্তারক্ষী

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ফিলিস্তিনি এক কিশোর নিহত হয়েছে। পশ্চিম তীরের একটি চেকপয়েন্টে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর গুলিবর্ষণের পর সেনা সদস্যরা পাল্টা গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এক নিরাপত্তারক্ষী।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে কালান্দিয়া সামরিক চেকপয়েন্টে হামলার পর এক ফিলিস্তিনি কিশোর মারা গেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা ওয়াফা। নিহত ওই কিশোরের নাম ইসহাক হামদি আলজউনি।
১৭ বছরের এই কিশোর শনিবার পশ্চিম তীরের ওই চেকপয়েন্টে গুলি চালানোর পর ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে গুলিবিদ্ধ ও নিহত হন। এ ঘটনায় একজন নিরাপত্তারক্ষীও হালকা আহত হয়েছেন বলে বার্তাসংস্থাটি জানিয়েছে।
আল-আকসা শহীদ ব্রিগেড নামক গোষ্ঠী আলজউনিকে নিজেদের সদস্য হিসেবে দাবি করেছে। এই গোষ্ঠীটি ফাতাহ-এর সশস্ত্র শাখা। ব্রিগেডটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের বীর যোদ্ধারা … কালান্দিয়া চেকপয়েন্টে সরাসরি দখলদার (ইসরায়েলি) সৈন্যদের লক্ষ্য করে হামলা করতে সক্ষম হয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, চেকপয়েন্টের ঠিক উত্তরে কুফর আকাব এলাকার কিশোর এই বন্দুকধারী গুলি চালানোর জন্য এম-১৬ রাইফেল ব্যবহার করেছিল। মূলত কালান্দিয়া চেকপয়েন্ট হলো অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের রামাল্লার মধ্যে ব্যবহৃত প্রধান প্রবেশ পথ।
ইসরায়েলি বাহিনী গত সোমবার সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে জেনিন শরণার্থী শিবিরে হামলা চালানোর পর থেকে গত সপ্তাহে পশ্চিম তীরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক গত শুক্রবার পশ্চিম তীরে এসব অভিযানে ইসরায়েলের ‘উন্নত সামরিক অস্ত্র’ ব্যবহারের নিন্দা করেছেন। অন্যদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, সহিংসতা বৃদ্ধির পর ওয়াশিংটন ইসরায়েলের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে।