বিশেষ: হারিয়ে যাওয়া শৈশবের ১১ টি খেলাধুলা, আপনিও তালিকা দেখে ফিরে যান সেই ছোটবেলায়

‘শৈশব’ শব্দটা শুনলেই মনে আসে রঙিন গল্পে ভরা এক জগত, হারিয়ে যায় শৈশব। শৈশবের শত খেলাও হারিয়ে যায়। আমি এখন যখন এই খেলার কথা ভাবি, তখন আমি আমার সতীর্থদের কথা ভাবি। শৈশবের হারানো স্মৃতি আবার ফিরে পান। হাসিতে পূর্ণ একটি উদাসীন মুহূর্ত। আমি তখন পারিনি! কত গল্প, কত জোকস, কত খেলা। তার সতীর্থের হদিস জানা যায়নি। কিন্তু খেলার স্মৃতি রয়ে গেছে।

মার্বেল
ছোটবেলায় মার্বেল নিয়ে খেলেনি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। এই মার্বেল খেলার প্রতি প্রবল নেশা ছিল। এই স্মৃতি অবর্ণনীয়। পকেটে মার্বেল নিয়ে ঘুমাতাম সেই দিনগুলোর কথা ভাবলে একটা নস্টালজিয়ার অনুভূতি হয়। স্কুলের পরে যখন আমি মার্বেল কিনেছিলাম এবং আমার বাবা আমার বাবার কাছে মার্বেল কেনার বায়না ধরার দিনগুলো সত্যিই সুন্দর ছিল।

লাটিম
লাটিম আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলা। লাটিম খেলতে পারে না এমন লোক আগে পাওয়া যেত না, কিন্তু এখন তারা। এটি শিশুদের সবচেয়ে জনপ্রিয় গেমগুলির মধ্যে একটি। এটি কেবল একটি খেলা নয়, এটি একটি অনুস্মারক যে কীভাবে তার মা লাতিমকে ছোটবেলায় লুকিয়ে রেখেছিলেন। আমার নতুন রঙিন ল্যাজিওতে কাউকে হারানোর স্মৃতি এখনও আমার আছে। অন্যদিকে, একের পর এক লাটিমের হামলায় চোখের সামনে নিজের সুন্দর লাটিম ক্ষত-বিক্ষত হতে দেখার স্মৃতি এখনো নিজেকে পীড়া দেয়।

কুতকুত
কুটকুট খেলা বাঙালী গ্রামের মেয়েদের একটি প্রিয় খেলা। স্কুল থেকে বাড়ি আসার আগে মেয়েরা দল বেঁধে এই খেলা খেলত। এই খেলার প্রধান কাজ ছিল ঘর কাটা এবং কাদামাটি দিয়ে লাফানো। এটি একটি মেয়েদের খেলা হিসাবে পরিচিত ছিল কারণ অনেক ছেলে এটি বুঝতে পারেনি।

পুলিশ চোর
কাগজের 4 শীট। প্রত্যেকটি চোর, পুলিশ, ডাকাত এবং বব দ্বারা লেখা। এই শ্বেতপত্র নিয়ে অনেক ঘণ্টা কেটে গেছে। কে চোর আর কে পুলিশ তা নিয়ে অনেক মারামারি ও খেলা চলছিল।

কানামাছি
‘কানামাছি ভোঁ ভোঁ, যাকে পাবি তাকে ছোঁ’- এই সুর আজও বাজছে শান্ত বিকেলে। চলো ফিরে যাই বিশুদ্ধ শৈশবে। বিকেলের আলোয়, একদল শিশু তাদের একজনের চোখ বেঁধে গলায় গেয়েছিল ‘কানামাছি ভোঁ ভোঁ, যাকে পাবি তাকে ছোঁ’। মাছি ছুঁলেই জন্ম নেয় নতুন মাছি। এভাবে একের পর এক পাল্টে যায় কানামাছি।

ছোঁয়াছুঁয়ি
ছোটবেলায় স্কুলে ও বিকেলে খেলার মাঠে এই খেলা অনেক খেলেছি। টসের মাধ্যমে একজনকে চোর নির্বাচন করা হতো। চোর বাকি সবাইকে দৌড়ে ছোঁয়ার চেষ্টা করতো। যাকে ছুঁতে পারতো, সে-ই চোর হতো।

লুকোচুরি
খেলাটিও অনেক জনপ্রিয় ছিল। লুকোচুরি খেলেননি ছোটবেলায় এমন মানুষ কমই আছেন। এখানেও একজনকে টসের মাধ্যমে চোর নির্বাচন করা হতো। সে চোখ বন্ধ করে ১-৫০ অথবা ১০০ পর্যন্ত গুনতো। ততক্ষণে সবাই লুকিয়ে পড়তো। গণনা শেষ হলে চোর সবাইকে খুঁজে বেড়াতো। যাকে প্রথম দেখতো তার নাম ধরে ১ টিপ, ২ টিপ এভাবে বলতো। যদি কারও নাম বলার আগেই কেউ এসে চোরকে ছুঁয়ে ‘টিলো’ বলতো, সে-ই আবার চোর হতো। অন্যথায় যাকে ‘১ টিপ’ বলা হয়েছে, সে-ই আবার চোর হতো।

বরফ-জল
খেলাটি অনেকটা ‘ছোঁয়াছুঁয়ি’ খেলার মতোই। তবে চোর এখানে যাকে ধরতো; সে স্থির হয়ে থাকতো। যতক্ষণ না অন্য কেউ এসে তাকে ছুঁয়ে মুক্ত করতো। যদি চোর সবাইকে ছুঁয়ে বরফ করে দিতো। তাহলে প্রথমে যাকে ছুঁয়েছে সে চোর হতো।

কুমির-ডাঙা
এখানে একজনকে কুমির বানানো হতো। খেলার সঙ্গী হিসেব করে কতগুলো ঘর নির্বাচন করা হতো। যতক্ষণ সেই ঘরে মানুষ থাকবে তার কিছু হবে না। তবে বাকি জায়গাজুড়েই কুমিরের রাজত্ব। তবে এক ঘরে কারও বেশিক্ষণ থাকার নিয়ম ছিল না। তাই মানুষকে ডাঙা ছেড়ে জলে নামতেই হতো। এর মধ্যে কুমির কাউকে ধরতে পারলে সে-ও কুমির হয়ে যেতো।

সাত চারা
ইটের ওপর ৭টি চারা রেখে দূর থেকে বল নিক্ষেপ করা হতো। বল নিক্ষেপ করে সাত চারা ফেলার পর নিক্ষেপকারীরা সবাই পালিয়ে যেতো। এদিকে বল হাতে শত্রুরা খুঁজতো নিক্ষেপকারীদের। যদি নিক্ষেপকারীদের কেউ অগোচরে আবার সাতটি চারা বসিয়ে দিতো। তাহলে নিক্ষেপকারীরা বিজয়ী হতো। যদি শত্রুরা এর আগেই নিক্ষেপকারীদের গায়ে বল ছুঁড়ে মারতো। তাহলে শত্রুরা বিজয়ী হতো।

বউচি
এ খেলায় বউ তার দলের নির্দিষ্ট ঘর থেকে দূরে আরেকটি ঘরে অবস্থান করতো। প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের কাজ ছিল বউ যাতে দৌড়ে তার দলের ঘরে পৌঁছতে না পারে। বউয়ের দলের একজন করে সদস্য দম নিয়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ছুঁয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতো। ছুঁয়ে দিলে সে বাদ। তাই ছোঁয়া বাঁচাতে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রাও এদিক-সেদিক দৌড়ায়। এই ফাঁকে বউ চেষ্টা করে দৌড়ে তার দলের জায়গায় চলে আসতে। বউ প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের কোনো রকম ছোঁয়া ছাড়া নির্দিষ্ট স্থানে চলে এলে বউয়ের দল জয়ী। যদি আসার সময় প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড় ছুঁয়ে দেয়, তবে প্রতিপক্ষ জয়ী।

লেখক: মামুনূর রহমান হৃদয়

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *