এভারেস্টে ওঠার অনুমতি পেলেন রেকর্ড সংখ্যক আরোহী, বাড়ছে আবেদনের পাহাড়

চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত রেকর্ড ৪৫৪ জন পর্বতারোহীকে মাউন্ট এভারেস্টে আরোহনের অনুমতি দিয়েছে নেপাল সরকারের পর্যটন বিভাগ। সামনের দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও জানিয়েছেন বিভাগের কর্মকর্তারা।
নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা বিজ্ঞান কৈরেলা বলেন, ‘২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৪৫৪ জন পর্বতারোহীকে এভারেস্টে আরোহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নেপালের ইতিহাসে এটা একটা রেকর্ড। এর আগে কোনো বছর এত সংখ্যক আরোহীকে (এভারেস্টে ওঠার) অনুমোদন দেওয়া হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখনও প্রচুর সংখ্যক আবেদন আমাদের দপ্তরে পড়ে আছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। সামনের দিনগুলোতে (এভারেস্টে আরোহনের) অনুমোদন পাওয়া পবর্তারোহীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।’

হিমালয় পর্বতমালার নেপাল রেঞ্জে অবস্থিত বিশ্বের উচ্চতম পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট। নেপালের স্থানীয় ভাষায় ‘সাগরমাতা’ নামের এই পর্বতটির উচ্চতা উচ্চতা ২৯ হাজার ২৯ ফুট। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত পর্বতারোহী মাউন্ট এভারেস্টে আরোহনের জন্য নেপাল সরকার বরাবর আবেদন জানান। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত এই মাউন্ট এভারেস্ট।

আবহাওয়াগত কারণে বছরের সবসময় এভারেস্টে আরোহন করা যায় না। এপ্রিল ও মে মাস এভারেস্টে আরোহন অভিযানের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বা মৌসুম। অধিকাংশ পর্বতারোহী এই সময়েই আবেদন করেন।

এর আগে ২০১৯ সালে ৩৮১ জন পর্বতারোহীকে এভারেস্টে আরোহনের অনুমতি দিয়েছিল নেপালের সরকার। এতদিন পর্যন্ত এটাই ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্বাতারোহীকে অনুমোদন দেওয়ার রেকর্ড।

তবে চলতি মৌসুমে ২০১৯ সালের তুলনায় তিনগুণ পর্বতারোহীকে এভারেস্টে আরোহনের অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান কৈরেলা। এএফপিকে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, চলতি মৌসুমে ৯ শতাধিক পর্বতারোহীকে এভারেস্টে ওঠার অনুমোদন দেওয়া হবে।’

এভারেস্টে আরোহন করতে গিয়ে অনেক পর্বতারোহীর মৃত্যুও ঘটে। নেপাল সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি মৌসুমে গড়ে ৬ জন পর্বতারোহী যাত্রাপথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যান। ২০১৯ সালে মারা গিয়েছিলেন ১১ জন।

চলতি মৌসুমে বিদেশি যেসব পর্বতারোহী এভারেস্টে ওঠার অনুমতি চেয়েছেন, তাদের মধ্যে চীনাদের সংখ্যা সর্বোচ্চ (৯৬ জন)। এ তালিকায় চীনাদের পরেই আছেন মার্কিন পর্বতারোহীরা (৮৭ জন)।

নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট অং শেরিং শেরপা এএফপিকে বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে গত প্রায় তিন বছর দেশি-বিদেশী কোনো পর্বতারোহীকে (এভারেস্টে ওঠার) অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ কারণেই এ মৌসুমে এত বেশিসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে।’

সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *