RUSHvsUKR: ১ দিনে ৮১ বার ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জেনেনিন যুদ্ধের পরিস্থিতি

ইউক্রেনে বিভিন্ন ধরনের ৮১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। এতে কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সর্বশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে নতুন করে ‘মারাত্মক আক্রমণ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (০৯ মার্চ) ছোড়া রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ২৮টি ক্রুজ মিসাইল, ২০টি ক্যালিবার ক্রুজ মিসাইল, ৬টি আকাশ থেকে ছোড়া মিসাইল, ৬টি কিনজাল মিসাইল, ৮টি যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া মিসাইল এবং ১৩টি অ্যান্টি এয়ারক্র্যাফট গাইডেড মিসাইল ছিল। এছাড়া মস্কো আটটি ইরানের সাহেদ ১৩৬-১৩১ ড্রোন হামলাও চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী জানিয়েছে, তারা অন্তত ৩৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছেন।
ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর মাকসেম মার্চেঙ্কো বলেন, রুশ বাহিনীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। এতে ওই অঞ্চল পুরোপুরি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মার্চেঙ্কো আরো বলেন, অন্য ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ওডেসার বেশকিছু আবাসিক ভবনেও আঘাত হেনেছে। অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্য থেকে কয়েকটি ভূপাতিত করেছে ইউক্রেনের বিমান ধ্বংসকারী ইউনিট। তার আশঙ্কা, সামনে এ ধরনের হামলা আরো হতে পারে।
এদিকে, খারকিভের গভর্নর ওলেহ সায়নেহুবোভ জানান, রাশিয়া এ অঞ্চলে অন্তত ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এছাড়া দিনিপ্রোর লুৎস্ক এব লিভন শহরেও রুশ বাহিনীর হামলার কবলে পড়েছে। এদিকে, সুমি নামক শহরেও বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে ইউক্রেনের সংবাদপত্র জেরকালো টাইজনিয়া। পশ্চিম লভিভ অঞ্চলের ওপর দিয়েও একটি ড্রোন উড়ে যেতে দেখা গেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
ইউক্রেনের বাখমুত শহরের বেসামরিক নাগরিকরা বাড়িঘর ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। এতে সহায়তা করে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। অনেকের দাবি, বেসামরিকদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ইউক্রেনীয় সেনাদের বাখমুত থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর একজন প্রতিনিধি এপিকে জানায়, বর্তমানে বাখমুতের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। এমনকি, সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য গাড়িতে করে শহর ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়াটাও রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সবাই হেঁটে শহর ছাড়ছেন।
দীর্ঘ আট মাস ধরে বাখমুতে অব্যাহত হামলা চালাচ্ছে রুশ সেনাবাহিনী। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপ। কয়েক মাস আগে থেকেই হামলা চালিয়ে ধীরে ধীরে শহরটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তারা।
সূত্র: আল-জাজিরা