বিনা বেতনে কাজ করবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, নিলেন বড় সিদ্ধান্ত
ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের জেরে বিনা বেতনে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও তার মন্ত্রিসভার ১৪ জন সদস্য। ১২ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২ জন প্রতিমন্ত্রী।
এই সদস্যদের সবাই শেহবাজের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএলএন) সদস্য। এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজধানী ইসলামাবাদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে দেশের গভীর অর্থনৈতিক সংকটের জেরে নিজে বিনা বেতনে কাজ করবেন বলে জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে মন্ত্রিসভার পিএমএলএনের সদস্যরা বলেন, এক্ষেত্রে তারাও নেতাকে অনুসরণ করবেন।
বৈঠকে জোটের শরিক পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ও দেশটির বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টোও উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি বলে জানিয়েছে মন্ত্রিসভার একটি সূত্র।
বিগত বিভিন্ন সরকারের আমলে ঘটা অপব্যয়-দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ ও করোনা মহামারির জেরে বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট চলছে পাকিস্তানে। যে কোনো দেশের ন্যূনতম অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকতে হয়, সেখানে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে মাত্র দুই সপ্তাহের আমদানি ব্যয় নির্বাহের মতো ডলারের মজুত আছে।
অর্থনীতির এই টালমাটাল অবস্থার জেরে দেশটিতে খাদ্য-ওষুধ-জ্বালানির মত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সব পণ্যের দাম বাড়ছে অবিশ্বাস্য হারে। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ২২.২০ রুপি বেড়ে হয়েছে ২৭২ টাকা, যা সর্বকালীন রেকর্ড।
এই পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যয় কমানোর জন্য গতমাসে মন্ত্রিসভার সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা হ্রাস করতে পাকিস্তানের সরকারি কর্মকমিশন ন্যাশনাল অস্টারিটি কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন শেহবাজ শরিফ। তারপর বৃহস্পতিবার বিনা বেতনে কাজ করার সিদ্ধান্ত জানালেন তিনি।
পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো প্রধানমন্ত্রী বিনা বেতনে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।