“এবার আর অযোধ্যায় রামভক্তদের ওপর গুলি চলবে না!” দীপাবলিতে নিষাদরাজের বংশধরদের সঙ্গে যোগীর বিস্ফোরক বার্তা

দীপাবলির উৎসবে অযোধ্যায় এক অনন্য মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল দেশবাসী। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই বিশেষ দিনে অযোধ্যার নিষাদ ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে দীপাবলি উদ্যাপনে সামিল হন। এই উপলক্ষে ভগবান শ্রীরাম এবং নিষাদ রাজের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে স্মরণ করে তিনি অযোধ্যার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় পরম্পরাকে সুরক্ষিত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

“অযোধ্যায় কোনো মন্থরা বা মারীচের কুদৃষ্টি পড়তে দেওয়া যাবে না”

নিষাদ সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী দিনে অযোধ্যার ওপর যেন কোনো মন্থরা বা মারীচের কুদৃষ্টি না পড়ে। অযোধ্যার গৌরব ও বৈভবকে লুণ্ঠন করা এবং একে পুনরায় বদনাম করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে সফল হতে দেওয়া যাবে না।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, অযোধ্যা ধামের ওপর যেন কারও অশুভ নজর না পড়ে, সেটি আমাদের সকলের যৌথ দায়িত্ব। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বার্তা দেন, “এখন আর অযোধ্যায় রামভক্তদের ওপর গুলি চালানো হবে না এবং ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিলে কেউ লাঠি-সোটা উঁচিয়ে আসবে না। পঞ্চকোশী, ১৪ কোশী কিংবা ৮৪ কোশী পরিক্রমার ওপর আর কেউ কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে না।”

রাম ও নিষাদ সম্প্রদায়ের রামায়ণকালীন সম্পর্ক

দীপাবলির এই মহালগ্নে মুখ্যমন্ত্রী নিষাদ সম্প্রদায়ের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করার বিষয়টি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রামায়ণে শ্রীরামের ১৪ বছরের বনবাসকালীন সময়ে নিষাদরাজ গুহ এবং কেবটের প্রসংগ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ রয়েছে। কেবট যেভাবে পরম ভক্তিতে ভগবান রাম, মাতা সীতা এবং লক্ষ্মণকে নদী পার করিয়েছিলেন, তা ভক্তি, সমর্পণ এবং সামাজিক সমতার এক অনবদ্য প্রতীক। ঐতিহ্যগতভাবে নিষাদ সম্প্রদায় মাঝি ও মৎস্যজীবী হিসেবে পরিচিত। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিয়ে ভগবান রামের সেই ঐতিহ্যময় সামাজিক বার্তাটিকেই ফের সামনে আনলেন। এদিন মলিন বস্তিতে গিয়ে দলিত ও নিষাদ পরিবারের মানুষদের মধ্যে মিষ্টি ও উপহারও বিতরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

রামললার দর্শন ও দেশের সমৃদ্ধি কামনা

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রামজন্মভূমি মন্দিরে গিয়ে ভগবান শ্রীরামললার দর্শন ও বিশেষ পূজা-অর্চনা করেন। এই উপলক্ষে তিনি দেশবাসীকে শুভ দীপাবলির আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “দীপাবলি হলো সনাতন সংস্কৃতির শাশ্বত চেতনা এবং ভগবান শ্রীরামের মহান আদর্শের এক মহোৎসব। এই উৎসব ধর্ম, সত্য ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের মূল ভিত্তিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।” প্রভু রামললার চরণে মাথা ঠেকিয়ে তিনি সমগ্র দেশের শান্তি, উত্তরোত্তর অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রার্থনা জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *