পটুয়াপাড়ার প্রতিমা আটকে অভিষেকের ব্যারিকেডে? ১৬৩ ধারা ভেঙে তোলপাড় কালীঘাট, কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

কালীপুজো ও দীপাবলির ঠিক মুখে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট এলাকা। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে পুলিশের বসানো ব্যারিকেড এবং ১৬৩ ধারার বিধিনিষেধ ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশবাহিনীর চরম বচসা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

পটুয়াপাড়ার ব্যবসায়ীদের সমস্যা নাকি রাজনৈতিক কৌশল?

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কালীপুজোর এই ব্যস্ত মরশুমে কালীঘাটের ঐতিহাসিক পটুয়াপাড়ার মৃৎশিল্পীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার অজুহাতে পটুয়াপাড়াগামী রাস্তায় উঁচু ব্যারিকেড গড়ে তোলা হয়েছে। যার কারণে তৈরি প্রতিমা প্যান্ডেলে বা ভক্তদের কাছে পৌঁছে দিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এই ব্যারিকেড সরিয়ে ব্যবসায়ীদের যাতায়াত স্বাভাবিক করার দাবি নিয়েই তারা সেখানে অবস্থান শুরু করেন।

তবে এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি থাকার কারণে সেখানে কোনো ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিজেপি কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেই দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা ও বাকযুদ্ধ। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন কর্মী ব্যারিকেড ঠেলে সরাসরি অভিষেকের বাড়ির দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও টানটান হয়ে ওঠে।

“মাফিয়াদের নাম নিয়ে মন্দির অপবিত্র করবেন না!”— তোপ শুভেন্দুর

অন্যদিকে, শনিবার সকালেই মানিকতলায় একটি কালীপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কালীঘাটের এই সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া নিয়ে কড়া জবাব দেন তিনি।

তৃণমূল নেতাদের এক হাত নিয়ে শুভেন্দু সাফ বলেন, “কালী মায়ের পুজো ও উৎসবের আবহে কেন মাফিয়াদের নাম নেওয়া হচ্ছে? এদের নোংরা নাম নিয়ে মা কালী এবং ঐতিহ্যবাহী কালীঘাট মন্দির এলাকাকে অপবিত্র করবেন না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকের জনবহুল পটুয়াপাড়ার মৃৎশিল্পীদের রুটিরুজির প্রশ্ন এবং অন্যদিকে হাই-প্রোফাইল নেতার কড়া নিরাপত্তা বিধিনিষেধ— এই দুইয়ের সংঘাতকে কেন্দ্র করে কালীঘাটের রাজনৈতিক পারদ এখন চূড়ান্তে পৌঁছেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *