স্ত্রী ও শাশুড়ি সহ শ্বশুরবাড়ির ৭ সদস্যকে খুন! ক্যাব চালকের পৈশাচিক কান্ডে বেঙ্গালুরুতে রক্তগঙ্গা

একটানা ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ঘটে গেল ইতিহাসের অন্যতম পৈশাচিক এক হত্যাকাণ্ড। স্ত্রী, শাশুড়ি, শ্যালক ও তাঁর শিশুপুত্র সহ শ্বশুরবাড়ির মোট ৭ জন সদস্যকে নির্মমভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল এক ক্যাব চালকের বিরুদ্ধে। শুধু খুন করাই নয়, প্রমাণ লোপাট করতে মৃতদেহগুলিও বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন প্রান্তে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শুক্রবার ৫২ বছর বয়সি ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই লোমহর্ষক ও শিহরণ জাগানো ঘটনায় গোটা কর্নাটকজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

কে এই অভিযুক্ত? কীভাবে এল পুলিশের নজরে?

ধৃত অভিযুক্তের নাম এস ইন্দুশেখর। পেশায় ক্যাব চালক হলেও সে ‘তানা বরদারি’ নামে একটি কন্নড়-ইংরেজি মাসিক ট্যাবলয়েড প্রকাশ করার পাশাপাশি একটি স্থানীয় ইউটিউব নিউজ চ্যানেলও চালাত। প্রায় দুই দশক আগে সুনীতার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নলিনীর মা শ্রীরামপুরা থানায় নিজের মেয়ে নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি ডায়েরি করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ ইন্দুশেখরের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করে। পরে জেরা করতেই একের পর এক হাড়হিম করা তথ্য বেরিয়ে আসে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাজাজিনগরের কাছে একটি ভাড়াবাড়ির ছাদে এক কামরার ঘরেই এই হত্যাকাণ্ডগুলি চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই চিক্কাবল্লাপুর জেলার নন্দী হিলসের কাছ থেকে শিবকুমারের ৭ বছরের ছেলে পুনীতের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের মৃতদেহ উদ্ধারে তল্লাশি চলছে।

খুন হওয়ার তালিকায় কারা রয়েছেন?

অভিযোগ অনুযায়ী, ইন্দুশেখর একে একে যাদের খুন করেছে তারা হলো:

  • স্ত্রী সুনীতা

  • শাশুড়ি রূপাবতী

  • দুই শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্কর

  • দুই শ্যালকের স্ত্রী দিব্যা ও নলিনী

  • শিবকুমারের ৭ বছরের শিশুপুত্র পুনীত

এছাড়া, এই গোটা পৈশাচিক ঘটনায় অভিযুক্তের ১৭ বছরের মেয়ের ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কেন এই নৃশংসতা? দাম্পত্য বিবাদের জের নাকি মানসিক বিকৃতি?

পুলিশের অনুমান, সুনীতার ঘনঘন বাপের বাড়ি যাওয়া এবং ভাই-মায়েদের সঙ্গে তাঁর অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা ও পরিবারের হস্তক্ষেপ মোটেই মেনে নিতে পারত না ইন্দুশেখর। এই পারিবারিক অশান্তির জেরে গত ১৬ অক্টোবর থেকে সে একে একে সকলকে নিজের বাড়িতে ডেকে এনে শিলনোড়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করে বলে অভিযোগ। এরপর মৃতদেহগুলি কাপড় বা বস্তায় মুড়ে গাড়ি করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে আসত সে। প্রতিবেশীদের বলত, তারা ঘুরতে গেছে।

কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়্গে জানিয়েছেন, অপরাধীর মানসিক বিকৃতি স্পষ্ট। ঘটনার তদন্তে তিনজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশকে নিয়ে একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) গঠন করা হয়েছে। অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি ও শিলনোড়া বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *