তৃণমূল অফিসে ১ কোটি টাকা উদ্ধার! আইসি-র গাড়ি নিয়ে অভিষেকের বোমার পরই পাল্টা চ্যালেঞ্জ মদন মিত্রের

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অন্তর্গত সরিষায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয় থেকে কোটি টাকারও বেশি নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের দলীয় কার্যালয়ে থরে থরে সাজানো টাকার বান্ডিল পাওয়ার পর থেকেই উত্তাপ চড়ছে শাসকদলের অন্দরে। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে পুলিশকে সরাসরি নিশানা করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন, অন্যদিকে এই ইস্যুতে অভিষেককেই পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্র।

“IC-র গাড়িতে করে টাকা গেছে, ভিডিও আছে”—অভিষেকের ধামাকা ও মদনের পালটা তোপ

ডায়মন্ড হারবারে টাকার পাহাড় উদ্ধারের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় থানার আইসি (IC)-র সরকারি গাড়িতে করে এই টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তার সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজও তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

তবে অভিষেকের এই অভিযোগ ও ভিডিও থাকার দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র কটাক্ষ করেছেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত ও আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এগুলি যদি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হয়, তাহলে দেখা যাবে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে এবং কোথাও কোনও বেআইনি কাজ হয়নি। উল্টে আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বলব, আপনি প্রতি মুহূর্তে বলছেন সব কিছুর ভিডিও আপনার কাছে আছে, তাহলে সেগুলি দেখাচ্ছেন না কেন? জনগণের সামনে প্রমাণ করছেন না কেন?”

অভিষেকের কার্যালয়ের সামনে রহস্যময় নজরদারি! স্পিকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চিঠি

এদিকে, টাকা উদ্ধারের বিতর্কের মাঝেই নতুন এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তার মাধ্যমে তিনি জানান, গত ২ দিন ধরে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর অফিস ও বাসভবনের আশেপাশে সন্দেহজনকভাবে নজরদারি চালাচ্ছে।

অভিষেক জানান:

  • নজরদারিতে ব্যবহৃত বাইকগুলির রেজিস্ট্রেশন নম্বর তিনি চিহ্নিত করেছেন।

  • জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ওই ব্যক্তিরা নিজেদের পুলিশকর্মী বলে দাবি করেছে।

  • একজন নির্বাচিত সাংসদের বাসভবনে রাজ্য পুলিশ কার নির্দেশে ও কী উদ্দেশ্যে নজরদারি চালাচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে লোকসভার স্পিকার, কলকাতা পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

পিএ সুমিত রায়কে জেরাতেই কি টাকার হদিশ?

পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, ডায়মন্ড হারবারের অফিসে বিপুল অংকের এই নগদ টাকার হদিশ মিলেছে কয়েকমাস আগে গ্রেফতার হওয়া অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জেরা করেই। এর পরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়ায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, যেখানে এই সম্পূর্ণ ঘটনার নেপথ্যে থাকা কোনও ‘কিংপিন’-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তৃণমূলের দুর্গ বলে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দলীয় কার্যালয় থেকে এত টাকা উদ্ধার এবং তার পর নেতাদের এই অভ্যন্তরীণ বাকযুদ্ধ রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *