“দিনে ৩০টি সিগারেট খাওয়ার সামিল!” দিল্লির ভয়াবহ দূষণ নিয়ে প্রধান বিচারপতির চাঁচাছোলা মন্তব্য, সুপ্রিম কোর্টে তুঙ্গে বিতর্ক

দিল্লি এবং সমগ্র এনসিআর (NCR) অঞ্চলজুড়ে ক্রমাগত বাড়তে থাকা মারাত্মক বায়ুদূষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত শুনানিতে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠল। শুক্রবার শীর্ষ আদালতে মামলাটি উঠলে কেন্দ্র ও স্থানীয় প্রশাসনের সাময়িক পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লির একাধিক এলাকায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৪৫০ ছাড়িয়ে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় আবহাওয়াবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনাকে নিয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানি চলে।
“দিনে ৩০টি সিগারেট খাওয়ার সামিল!”
শুনানি চলাকালীন আদালতকে সহায়তাকারী প্রবীণ আইনজীবী তথা অ্যামিকাস কিউরি (Amicus Curiae) অপরাজিতা সিং দিল্লির বাতাসের বিষাক্ত মাত্রা তুলে ধরে জানান, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “দিল্লির বাতাসে শ্বাস নেওয়া মানে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৩০টি করে সিগারেট খাওয়া।”
আইনজীবীর এই মন্তব্য শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ব্যঙ্গাত্মক সুরে পর্যবেক্ষণ জানান, “আশা করি, আপনারা সবাই দিল্লির এই আবহাওয়া বেশ উপভোগ করছেন।” তবে তিনি এও যোগ করেন যে, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে দূষণের মাত্রায় সাময়িক সামান্য পতন ঘটেছিল।
“সাময়িক নিষেধাজ্ঞা সেকেলে ও অকার্যকর”— ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি
দূষণ রুখতে প্রশাসনের নেওয়া গতানুগতিক পদক্ষেপগুলি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রতি বছর দূষণ বাড়লেই যান চলাচলে কড়াকড়ি কিংবা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার মতো সিদ্ধান্তগুলি অত্যন্ত সেকেলে ও অকার্যকর অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার মতো।
আদালতের বক্তব্য, এসব পদক্ষেপে সাময়িক কিছু স্বস্তি মিললেও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয় না। প্রতি বছর একই বিধিনিষেধ আরোপ করে দায় এড়ানোর এই পদ্ধতি আর চলবে না। কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন— দূষণের মূল কারণগুলি চিহ্নিত করে সেগুলির স্থায়ী সমাধান কবে এবং কীভাবে করা হবে?
কেবল খড় পোড়ানো নয়, নজর দিতে হবে স্থানীয় দূষণ ও পরিবহনেও
শুনানি চলাকালীন কৃষক, যানবাহন ও গণপরিবহন ব্যবস্থার মতো একাধিক প্রাসঙ্গিক বিষয় উঠে আসে। কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে জানায়, খেতের ফসলের অবশিষ্টাংশ বা খড় (Stubble) পোড়ানো নিঃসন্দেহে বিষাক্ত ধোঁয়াশার অন্যতম বড় কারণ। তবে কেবল কৃষকদের দোষ দিয়ে ক্ষান্ত থাকলে চলবে না।
পরিবহন ব্যবস্থা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং স্থানীয় স্তরে ঘটা অন্যান্য দূষণও সমানভাবে দায়ী। সমস্ত উৎসকে চিহ্নিত করে একযোগে সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে দিল্লির এই বিষাক্ত বাতাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।