কাকার শ্রাদ্ধে যোগ দেওয়াই কাল! রাহুল গান্ধীর সমাবেশে না আসায় দল থেকে বহিষ্কার দুশো কংগ্রেস কর্মী

শৃঙ্খলার নামে কড়া পদক্ষেপ করতে গিয়ে বড়সড় বিতর্কের মুখে পড়ল ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস (IYC)। দিল্লির রামলীলা ময়দানে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের আয়োজিত বিশাল সমাবেশে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে মধ্যপ্রদেশের এক জাঁদরেল নেতাসহ দেশজুড়ে দুশোরও বেশি ইয়ুথ কংগ্রেস নেতা-কর্মীকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় চমকপ্রদ ও মানবিক দিক হলো, অভিযুক্ত ওই নেতা সেদিন দলের সমাবেশে যেতে পারেননি কারণ ঠিক ওই দিনই ছিল তাঁর কাকার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান! আগে থেকেই পার্টিকে লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো রেহাই মেলেনি। এই ঘটনায় এখন কংগ্রেসের অন্দরে ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
গত ১ নভেম্বর দিল্লিতে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে এক বিশাল সমাবেশ ডেকেছিল কংগ্রেস। সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকার অপরাধেই দেশজুড়ে দুইশোর বেশি ইয়ুথ কংগ্রেস কর্মী-নেতার বিরুদ্ধে কোপ পড়েছে। যার মধ্যে শুধু মধ্যপ্রদেশ রাজ্য থেকেই প্রায় ৬০ জনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই তালিকায় অন্যতম নাম রোহিত রাজোরিয়া (Rohit Rajoria)। যিনি গত ১৫ বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পার্টির জন্য কাজ করে আসছেন এবং এর আগে দলের নানা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার পুলিশের এফআইআর ও জেল খাটার মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
শ্রাদ্ধের কার্ড দেখিয়েও মেলেনি ছাড়!
বহিষ্কৃত নেতা রোহিত রাজোরিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত অক্টোবর মাসেই তাঁর কাকার মৃত্যু হয় এবং ১ নভেম্বর ছিল তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও অতিথিদের ভিড় থাকায় তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে আগেই রাজ্য সভাপতি ও শীর্ষ নেতাদের চিঠি দিয়ে অনুমতি চেয়েছিলেন। এমনকি তিনি তাঁর কাকার শ্রাদ্ধের আমন্ত্রণপত্রটি পর্যন্ত প্রমাণ হিসেবে জমা দিয়েছিলেন।
কিন্তু এতকিছুর পরেও কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show-cause notice) না দিয়েই তাঁকে এক লপ্তে পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। রোহিতের সাফ কথা, পরিবারের এই চরম ও বাধ্যতামূলক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দলের পক্ষ থেকে এমন অমানবিক শাস্তি পাওয়াটা পুরোপুরি অন্যায়।
দলের অন্দরে ও বাইরে সমালোচনার ঝড়
শুধু রোহিত একা নন, সাসপেন্ড হওয়া অন্যান্য নেতারাও তাঁদের ব্যক্তিগত পারিবারিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন—কারও ভাইয়ের সন্তান জন্ম নিয়েছে, তো কারও পরিবারে অন্য জরুরি অনুষ্ঠান ছিল। কিন্তু কাউকেই এক চুলও ছাড় দেয়নি শীর্ষ নেতৃত্ব।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক মহলে এবং কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, কংগ্রেসে এখন দলীয় শৃঙ্খলার নামে ব্যক্তির প্রতি অন্ধ আনুগত্য এবং নির্দেশ পালনই শেষ কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মানুষের পারিবারিক ও মৌলিক মানবিক দায়িত্বের কোনো দামই নেই। বিজেপি বিষয়টিকে হাতিয়ার করে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইয়ুথ কংগ্রেসের জাতীয় নেতৃত্ব তাদের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে জানিয়েছে যে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে চলা এই বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলনে দলের প্রতিটি কর্মীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। অনুপস্থিতি মানেই সরাসরি দায়িত্বে অবহেলা। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রক্ত-ঘাম দিয়ে দল গড়া পুরনো কর্মীদের প্রতি এমন কঠোর ও অমানবিক আচরণ শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিতকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।