সাহায্য করতে গিয়েই শেষ নিঃশ্বাস! ঝাড়খণ্ডে নিয়ন্ত্রণহীন ১৮ চাকার ট্রেলারের চাকায় পিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ৭ জনের

ঝাড়খণ্ডের খুঁটি জেলা এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল। অন্যের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে গিয়ে নিজেদেরই প্রাণ হারাতে হলো সাধারণ গ্রামবাসীদের। বৃহস্পতিবার রাতে কররা থানা এলাকার কোশাম্বি কলোনির কাছে এক ভয়ংকর সড়ক দুর্ঘটনায় চার মহিলা ও তিন শিশুসহ মোট সাতজন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ কররা থানার অন্তর্গত রেলগেট সংলগ্ন রাস্তায় একটি স্কুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আচমকাই রাস্তার পাশের গভীর ঝোপঝাড়ের মধ্যে ছিটকে পড়ে যায়। সেই বিকট শব্দ শুনে আশপাশের বাড়ি ও এলাকা থেকে দ্রুত ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কয়েকজন সাহসী যুবক দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ঝোপের ভেতর আটকে থাকা জখম স্কুটিচালককে উদ্ধার করার কাজে হাত লাগান। ঠিক সেই মুহূর্তে পরিস্থিতি দেখতে ও সাহায্য করতে বেশ কয়েকজন মহিলা ও ছোট শিশু রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

কিন্তু ঘুণাক্ষরেও কেউ বুঝতে পারেননি যে তাঁদের জন্য কী ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। ঠিক সেই সময় তোরপার দিক থেকে অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসছিল একটি বিশালাকার ১৮ চাকার ট্রেলার। ওই এলাকার রাস্তাটি অত্যন্ত তীব্র বাঁকযুক্ত এবং রাতে সেখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও ছিল না। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অন্ধকারের মধ্যে তীব্র গতির কারণে ট্রেলারের চালক রাস্তার ধারে দাঁড়ানো মানুষজনকে দেখতে পাননি। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা ওই লোকজনের ওপর দিয়েই গাড়িটি চালিয়ে দেয় ঘাতক ট্রেলারটি।

আচমকা এই মর্মান্তিক ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ রক্তে ভেসে যায়। ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে খুঁটি সদর হাসপাতাল এবং তোরপা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাকিদেরও মৃত্যু হয়। এই ভয়ংকর দুর্ঘটনায় সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, একটিই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা বিরসা নায়েকের স্ত্রী কসিলা দেবী, তাঁর মেয়ে অঞ্জলি কুমারী এবং মাত্র এক বছরের ছোট্ট নাতি সৌরভ নায়েক। একসঙ্গে পরিবারের তিনজনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে নায়েক পরিবার।

এছাড়াও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মান্দু দেবী, পাকো দেবী, তুতি কুমারী ও গোলু কুমার। ঘটনায় আহত দু’জনকে বর্তমানে হাসপাতালে தீவிர চিকিৎসার অধীনে রাখা হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, আহত শিশুটির শারীরিক অবস্থা আপাতত বিপদমুক্ত। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই গভীর রাতে খুঁটির পুলিশ সুপার ঋষভ গর্গ দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান এবং আহতদের চিকিৎসার সমস্ত বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানান যে দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। রেলগেটের কাছে স্কুটি দুর্ঘটনার জেরে স্থানীয়রা যখন পরোপাকারে এগিয়ে এসেছিলেন, ঠিক তখনই অন্ধকারের সুযোগে ঘাতক ট্রেলারটি এই কাণ্ড ঘটায়। ঘটনার পরই অভিযুক্ত ট্রেলারের চালক ও খালাসি গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘাতক ১৮ চাকার ট্রেলারটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং পলাতক চালকের খোঁজে জোরালো তল্লাশি শুরু করেছে। মৃতদের দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কররা থানার পুলিশ সমগ্র ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *