ধনতেরাসের সকালেই দিল্লিতে বড় বিপত্তি! করোলবাগের গফ্ফর মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, নামানো হলো ২২টি দমকলের ইঞ্জিন

দীপাবলি ও ধনতেরাসের আনন্দে যখন পুরো দেশ মেতে উঠতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই রাজধানী দিল্লির অত্যন্ত ব্যস্ত ও জনপ্রিয় বাজারে নেমে এলো চরম বিপর্যয়। শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ধনতেরাসের ভোরের আলো ফুটতেই দিল্লির বিখ্যাত করোলবাগের গফ্ফর মার্কেটে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। উৎসবের মরশুমে শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোরগোল তৈরি হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের দাপট বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তড়িঘড়ি মোতায়েন করা হয়েছে দমকলের মোট ২২টি ইঞ্জিন।

দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (DFS) সূত্রে বিস্তারিত জানা গিয়েছে, করোলবাগের গফ্ফর মার্কেটের ১৩ নম্বর ব্লকে অবস্থিত বিখ্যাত ‘চেন ওয়ালি গলি’-র পুরী প্লাজার একটি দোকান থেকে প্রথম আগুনের ধোঁয়া ও লেলিহান শিখা বের হতে দেখা যায়। ভোরের দিকে কেনাকাটার জন্য বাজার খোলার আগেই এই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি ঘটনাটি বুঝতে পেরে দমকল বিভাগে খবর দেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একের পর এক দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

সংকীর্ণ গলি ও ঘিঞ্জি বাজার হওয়ায় আগুন যাতে আশপাশের অন্যান্য বহুতল ও জামাকাপড় ও ইলেকট্রনিক্সের দোকানগুলিতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেই জন্য চরম তৎপরতার সঙ্গে কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। অগ্নিনির্বাপণ কাজে গতি আনতে এবং পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিতে ২২টি ফায়ার টেন্ডারের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত জলের ট্যাঙ্কার এবং শক্তিশালী আলোর সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া বাজারের ভেতরের অন্ধকার গলিতে ঢোকার জন্য বিশেষ আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন দমকলকর্মীরা।

তবে ঠিক কী কারণে বা কীভাবে দোকানে এই ভয়াবহ আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী শর্ট সার্কিট থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা কিছুটা হলেও স্বস্তির। তবুও বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

উল্লেখ্য, দীপাবলি এবং ধনতেরাসের দিন করোলবাগের গফ্ফর মার্কেটে কেনাকাটার জন্য সকাল থেকেই হাজার হাজার ক্রেতার উপচে পড়া ভিড় হওয়ার কথা ছিল। ঠিক তার আগেই ভোরের এই অগ্নিকাণ্ড গোটা বাজার এলাকার ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের মনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দমকল বিভাগ এবং দিল্লি পুলিশ যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *