ভোরের নির্জন রাস্তায় মিনি ট্রাক ঘিরে জটলা, সাদা গুঁড়ো মেশাতেই হাতেনাতে ধরা পড়ল কারবারিরা!

খালি রাস্তা আর ভোরের কুয়াশাকে কাজে লাগিয়ে রমরমিয়ে চলছিল ভেজাল দুধ তৈরির কারবার। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে একেবারে হাতেনাতে বড় সাফল্য পেল ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। কালিতলা-আশুতি এলাকা থেকে ভেজাল দুধ তৈরির রকমারি সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরে সুনির্দিষ্ট ও গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ডায়মন্ড হারবার জেলার কালিতলা-আশুতি থানার পুলিশ আকস্মিক অভিযান চালায়। ঠাকুরপুকুর থেকে কালাগাছিয়া যাওয়ার প্রধান রাস্তার ধারে কালিতলা-আশুতি খালের কাছে একটি সম্পূর্ণ নির্জন জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে একটি ‘ছোটা হাতি’ (মিনি-ট্রাক) দাঁড় করিয়ে তিন জন ব্যক্তি ব্যস্ত হাতে কিছু একটা কাণ্ড ঘটাচ্ছিল। কাছে গিয়ে পুলিশ অফিসাররা দেখেন, ট্রাকের ভিতরে থাকা ৩৪টি বড় দুধের পাত্রের মধ্যে জল ঢেলে তার সঙ্গে একটি রহস্যজনক সাদা গুঁড়ো মেশানো হচ্ছে, যা দেখতে হুবহু আসল দুধের মতো।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই সমস্ত ভেজাল দুধ শহরের বিভিন্ন ডেয়ারি ফার্মে অত্যন্ত সুকৌশলে সরবরাহ করা হতো। এরপর সেই বিষাক্ত মিশ্রণ আসল দুধের সঙ্গে মিশিয়ে শহরতলির বিভিন্ন বাড়ি এবং বাজারে সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হতো। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই ওই তিন অভিযুক্তকে আটক করে এবং তাদের হেফাজত থেকে ৩৪টি বিশাল পাত্র বাজেয়াপ্ত করে। প্রতিটি পাত্রের ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ৪০ লিটার করে। শুধু তাই নয়, ওই ভেজাল মিশ্রণ তৈরির সাদা গুঁড়ো এবং বেশ কিছু ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেটও পুলিশি অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে।
ধৃত তিন অভিযুক্তের নাম কার্তিক ঘোষ (৩২), আমনুদ্দিন ঢালি (২৮) এবং রামিজ জমাদার (২৫)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামিকালই এই তিন অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে তোলা হবে এবং তাদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জেরা করার আবেদন জানানো হতে পারে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন গোয়ালঘরে এই ভেজাল দুধ নিয়মিত সরবরাহ করে আসছিল। তবে এই ভয়ঙ্কর মিশ্রণটি তৈরিতে ঠিক কী ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হতো এবং মানুষের জনস্বাস্থ্যে এর কতটা মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে, তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পরেই নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে।